শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

কুড়িগ্রামে গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে ইউরিয়া সার বিতরণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে এক সার ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেছেন কৃষকরা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

কুড়িগ্রামে গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে ইউরিয়া সার বিতরণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে এক সার ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেছেন কৃষকরা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

রোববার উপজেলার ২ নম্বর ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। তবে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার দাবি করেছেন, এলাকায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট ছিল না। তাঁর ভাষ্য, ‘মব’ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অন্যদিকে ভুরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেছেন, ওই এলাকায় চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ ছিল অনেক কম।

ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, “আমার দুই নম্বর ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে আজকে সার দেয়ার কথা ছিল, ওরা প্রস্তুতি নিছে। ওই এলাকাটা নদী এলাকা, এই এলাকাটাতে যথেষ্ট সারের চাহিদা রয়েছে।”

তিনি জানান, রোববার যত পরিমাণ সার বিতরণের কথা ছিল, তার তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি কৃষক সেখানে উপস্থিত হন। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

“কৃষক মনে করছে, কে পাবে, কে পাবে না, যখন বিতরণের জন্য দরজা খুলছে, ব্যস যে যার মতো হুড়োহুড়ি করে ঢুকে নিয়ে নিছে” বলেন ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি মি. উদ্দিন।

সারের সরবরাহ ও চাহিদার পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “চাহিদা ছিল চার হাজার বস্তা, সরবরাহ হলো এক হাজার ৩২০ বস্তা(৫০ কেজির বস্তা)। প্রায় ওয়ান ফোর্থ প্রায়” বলেন ওসি আজিম উদ্দিন।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সার ডিলার এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করেননি। তবে পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার অবশ্য সারের সংকটের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তাঁর দায়িত্বাধীন ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের জন্য ৬৮ মেট্রিক টন বরাদ্দ রয়েছে। নিয়মিতভাবে সার উত্তোলন ও সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

“ইউরিয়া সারের সংকট নেই কোন। ওই ইউনিয়নে ৬৮ মেট্রিক টন বরাদ্দ ছিল। নিয়মিত উত্তোলন হচ্ছে, বিতরণ হচ্ছে সরকারি মূল্যে। সর্বশেষ উত্তোলন ছিল ১৭ মেট্রিক টন মানে ৩৪০ বস্তা, আজকে আমাদের বিতরণের প্ল্যান ছিল” বলেন কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হতে পারে—এমন আশঙ্কায় আগেই সেখানে চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় অনেক বেশি, প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কৃষক সেখানে উপস্থিত হন।

মি. জব্বার বলেন, “ওদের টার্গেট একচুয়েলি কী আমি বুঝতেছি না যে মব করার টার্গেট কী না, নাহলে তো এতোগুলা লোক থাকার কথা না। কারণ অলরেডি ৫০ মেট্রিক টন সার নিয়ে আসছে এবং বিতরণ করছি। একটা পর্যায়ে তারা গুদাম ভেঙ্গে সার নিয়ে গেছে।”

এদিকে সারের সংকট না থাকলে আগে থেকেই বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা কেন করা হয়েছিল এবং কৃষকদের একাংশ কেন সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এলাকায় সারের কোনো সংকট নেই।

তিনি বলেন, “এখানে অনেকেই আছে যে, কৃষকরা তিন মাস পরে যে সার ব্যবহার করবেন সেটিও আগেই নিয়ে সংরক্ষণ করে রেখে দেন” বলেন কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার।

ঘটনার পর গুদাম থেকে নিয়ে যাওয়া ১৯৭ বস্তা সারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭০ বস্তা উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার। বাকি সার উদ্ধারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।