মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

লামায় পাহাড়ধসে দুই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু

টানা বর্ষণে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় এক রাতেই দুই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক দুটি ধসে স্বামী-স্ত্রী ও একটি শিশুসহ পাঁচজন মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারান।

লামায় পাহাড়ধসে দুই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু

টানা বর্ষণে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় এক রাতেই দুই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পৃথক দুটি ধসে স্বামী-স্ত্রী ও একটি শিশুসহ পাঁচজন মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারান।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় এ দুটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে প্রথম পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একটি ঘর মাটিচাপা পড়ে মো. জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২৫) নিহত হন।

তিনি আরও জানান, একই এলাকায় ভোর ৪টার দিকে দ্বিতীয় দফায় পাহাড়ধস হলে আরেকটি পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান।

আজিজনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাহাড়ধসের পর মানুষের চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা জানতে পারেন, পৃথক দুটি স্থানে পাঁচজন মাটিচাপা পড়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে টানা বর্ষণের কারণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। নতুন নতুন এলাকা পানিতে প্লাবিত হওয়ায় জনজীবনের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনো সেই নির্দেশনা মানছেন না।

অবিরাম বৃষ্টির প্রভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাও বিঘ্নিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে বুধবার রাতে বান্দরবান সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে তিনটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। তবে ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।