বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দেশে আরও ১৫০ গ্যাসকূপ খনন, বসবে তিনটি এলএনজি টার্মিনাল: মাহদী আমিন

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন করে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহ ও সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুই টার্মিনালের সঙ্গে আরও তিনটি টার্মিনাল যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনাল চালু করার লক্ষ্যও রয়েছে।

দেশে আরও ১৫০ গ্যাসকূপ খনন, বসবে তিনটি এলএনজি টার্মিনাল: মাহদী আমিন

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন করে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহ ও সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুই টার্মিনালের সঙ্গে আরও তিনটি টার্মিনাল যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনাল চালু করার লক্ষ্যও রয়েছে।

বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগ তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ১৫০ কূপ

জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মধ্যমেয়াদে সারা দেশে ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের কাজ শুরু হবে।

এলএনজির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বর্তমানে থাকা দুই টার্মিনালের পাশাপাশি আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনাল চালু করার উদ্যোগ রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণ কাজও চলছে। এ প্রকল্পের জন্য এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া গেছে এবং এর কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস সরবরাহের সংকট দ্রুত কাটিয়ে পরিস্থিতি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরপর গ্যাসের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, গ্যাস সরবরাহে এখন দৃশ্যমান উন্নতি দেখা যাচ্ছে এবং সামনে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।

ডিজেলে ভর্তুকি, কমেছে মূল্যস্ফীতি

মাহদী আমিন বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় দেশে ডিজেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম। জনগণের ওপর বাড়তি চাপ যাতে না পড়ে, সে জন্য এই খাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে কিংবা গত মাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তুলনামূলকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হারও কমে এসেছে।

মুডিসের পূর্বাভাসকে ‘সুখবর’ বললেন মাহদী

বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে আবার ‘স্থিতিশীল’ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিস রেটিংস। এই পরিবর্তনকে ‘সুখবর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিসের মূল্যায়নে দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ নেতিবাচক অবস্থা থেকে স্থিতিশীল অবস্থানে ফিরেছে। তাঁর দাবি, এর অর্থ হলো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এর ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের মর্যাদা বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট অর্থাৎ নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানও ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

সাত খাতে জনকল্যাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ

জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জন্য সরকার সাতটি খাতকে কেন্দ্র করে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, গণমানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন, নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক।

বর্তমান সরকার প্রচলিত শাসনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ভেঙে সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়বদ্ধতা ও পরিকল্পনার পরিচয় দিয়ে চলেছেন, তা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণদের ক্ষমতায়ন, কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, যুগোপযোগী যোগাযোগব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারের কার্যক্রম ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনের জন্য একটি শক্তিশালী ও কার্য