জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে নৌপথে লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করেছে মালিকপক্ষ। রোববার ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা এই দাবি জানিয়ে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র জমা দিয়েছে। চিঠিতে বর্তমান ভাড়ার ওপর সর্বোচ্চ ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বদিউজ্জামান স্বাক্ষরিত ঐ আবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১১৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। জ্বালানির এই বড় অংকের দাম বাড়ার ফলে নৌযান পরিচালনার খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এছাড়া ইঞ্জিন মেরামতের যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী এবং রঙের আকাশচুম্বী দামের কারণে সামগ্রিক ব্যয় প্রায় অর্ধেক বেড়ে গেছে বলে মালিকরা দাবি করেছেন। খরচের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে সংগঠনের মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটের একটি ট্রিপে শুধুমাত্র জ্বালানি বাবদ বাড়তি খরচ হবে ২১ হাজার টাকা।
লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত নতুন ভাড়ার তালিকায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ৩ টাকা ৭৭ পয়সা এবং এর অধিক দূরত্বের জন্য ৩ টাকা ৩৮ পয়সা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে চালু থাকা সর্বনিম্ন ২৯ টাকা ভাড়াকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার আবেদন জানিয়েছেন তারা। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক পথের উন্নতির ফলে লঞ্চে আগের মতো যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। লোকসানের মুখে থাকা এই শিল্পকে বাঁচাতে দ্রুত ভাড়া সমন্বয়ের বিকল্প নেই বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
মালিকদের এই দাবির প্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অংশীজনদের সঙ্গে বসে বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এখনই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।