বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কেন বিশ্ববাজারের চেয়ে বেশি দামে এলএনজি কিনছে বাংলাদেশ?

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। গত সপ্তাহে তিনটি এলএনজি কার্গো কিনতে পেট্রোবাংলার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) মূল্যসূচক অনুসরণ করে টেন্ডার আহ্বান করা হলেও তিনটি কার্গোর জন্য জেকেএম মূল্যায়নের তুলনায় অন্তত ৩০০ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

কেন বিশ্ববাজারের চেয়ে বেশি দামে এলএনজি কিনছে বাংলাদেশ?

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। গত সপ্তাহে তিনটি এলএনজি কার্গো কিনতে পেট্রোবাংলার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) মূল্যসূচক অনুসরণ করে টেন্ডার আহ্বান করা হলেও তিনটি কার্গোর জন্য জেকেএম মূল্যায়নের তুলনায় অন্তত ৩০০ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় গত সপ্তাহে আরামকোর কাছ থেকে জেকেএম সূচকের তুলনায় কিছুটা কম দামে এলএনজি সংগ্রহ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। কিন্তু স্পট মার্কেটের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে বেশি দামেই কার্গো কিনতে হচ্ছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) গত সপ্তাহে ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর, ১-২ অক্টোবর এবং ৫-৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য মোট তিনটি এলএনজি কার্গো কেনার টেন্ডার আহ্বান করে।

২৫-২৬ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম চেয়েছিল ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার। অথচ ওই সময়ে জেকেএম মূল্য ছিল সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ০৯ ডলার। ফলে শুধু এই কার্গোটিতেই সরকারকে ৯০ লাখ ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছে।

১-২ অক্টোবর সরবরাহের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল বিপি সিঙ্গাপুর। তাদের প্রস্তাবিত দর ছিল প্রতি ইউনিট ২৮ দশমিক ০৩ ডলার। বিপরীতে ওই সময় জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। এ কার্গোর ক্ষেত্রেও প্রায় ৯০ লাখ ডলার বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে।

অন্যদিকে, ৫-৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা হয় বিটল ইশয়া লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির দর ছিল ২৬ দশমিক ৬৬৮৮ ডলার। সে সময় জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। এই কার্গোতেও সরকারকে কয়েক লাখ ডলার অতিরিক্ত গুনতে হয়েছে।

আরপিজিসিএল জানিয়েছে, গত সপ্তাহে স্পট মার্কেটে তিনটি কার্গোর জন্য যখন টেন্ডার আহ্বান করা হয়, তখন প্ল্যাটস ও জেকেএমের দর ছিল ২২ দশমিক ৮২ ডলার থেকে ২৪ দশমিক ৬১ ডলারের মধ্যে। সেই হিসাবেও স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হয়েছে সরকারকে।

কেন বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে এলএনজি?

স্পট মার্কেটে কেন আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা জ্বালানি বিভাগকে দিয়েছে আরপিজিসিএল ও পেট্রোবাংলা।

তাদের ব্যাখ্যায় প্রথম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে। আগে ৯-১০ ডলারে বিক্রি হওয়া এলএনজির দাম এখন আন্তর্জাতিক বাজারে ২০ ডলারের বেশি—ফলে আমদানির ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এলএনজি আমদানিতে পেট্রোবাংলার নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির গড় হিটিং ভ্যালু (জিএইচভি) প্রতি স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুটে (এসসিএফ) ১০৯০ থেকে ১১১৮ বিটিইউ। এতে মিথেন গ্যাসের পরিমাণ থাকে ৯৭ থেকে ৮৪ শতাংশ।

তবে আমদানি করা এলএনজিকে দেশের নিজস্ব উৎপাদিত গ্যাসের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে মিশিয়ে সরবরাহ করতে হয়। এ কারণে এলএনজির গড় হিটিং ভ্যালু ১০১০ থেকে ১১০০-এর মধ্যে রাখতে হচ্ছে। এর ফলে মিথেনের পরিমাণ ৯১ শতাংশের বেশি থাকতে হয়।

পেট্রোবাংলার এই কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কোম্পানি বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের টেন্ডারে অংশ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয় কারণ হিসেবে রয়েছে স্পট মার্কেটের টেন্ডারে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এলএনজি সরবরাহের শর্ত। স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্গো সরবরাহ করতে গিয়ে প্রতিযোগী সরবরাহকারীর সংখ্যা কমে যায় এবং এর প্রভাব পড়ে দামের ওপর।

এ ছাড়া টেন্ডারে সরবরাহের সময়সীমা কম থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি আগ্রহী হলেও সময়মতো অংশ নিতে পারছে না। ফলে সরবরাহকারীর সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে।