মাদারীপুর জেলা শহরের একটি বাসা থেকে আট মাসের এক দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার ভোরের দিকে শহরের আমিরাবাদ এলাকার একটি বহুতল ভবন থেকে এই তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা চিন্ময় দাস (৩৮), তার সহধর্মিণী ইশা দাস (৩২) এবং তাদের মাত্র আট মাস বয়সী কন্যাসন্তান।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মৃত বীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্ত্রী সান্তনা রানী চন্দের মালিকানাধীন বাড়িটিতে গত তিন বছর ধরে ভাড়া থাকছেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সাতপাড় এলাকার ইতালি প্রবাসী যতীন বাড়ৈয়ের স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈ। রোববার বিকেলের দিকে চিন্ময় দাস তার পরিবারসহ মিষ্টি বাড়ৈয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন এবং নিজেকে তার চাচাতো ভাই পরিচয় দেন। এরপর রাতের কোনো এক সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘরের ভেতর একই দড়িতে বাবা চিন্ময় ও তার ৮ মাসের শিশুসন্তানের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায় এবং কাছাকাছি বিছানায় স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন উদ্ধারকারীরা।
ঘটনার বিশদ বিবরণ দিয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার সময় পাশের কক্ষে মিষ্টি বাড়ৈ একাই অবস্থান করছিলেন। মূলত তার কাছ থেকে টেলিফোনে তথ্য পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হতে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতার কারণে মিষ্টি বাড়ৈকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে।
থানা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে বলে আশা করছে পুলিশ।