রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিক নিহত

ওমান উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার পর নিখোঁজ থাকা তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ভারত সরকার। ওমান উপকূল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্তের পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে এ তথ্য জানান ভারতের নৌপরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।

মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিক নিহত
মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ ভারতীয় জাহাজ। ছবি: এনডিটিভি

ওমান উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার পর নিখোঁজ থাকা তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ভারত সরকার। ওমান উপকূল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্তের পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে এ তথ্য জানান ভারতের নৌপরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি সেত্তেবেলো’ নামের বাণিজ্যিক ট্যাংকারটি লক্ষ্য করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) পরিচালিত হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি ইরানি তেল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সর্বানন্দ সোনোয়াল ঘটনাটিকে সামুদ্রিক খাতের জন্য ‘মর্মান্তিক’ ও অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে ভারত সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে রয়েছে।

একই সঙ্গে বেঁচে যাওয়া ২১ ভারতীয় নাবিককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিহতদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় স্বদেশে পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

ট্যাংকারটিতে মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৪ জন ভারতীয় এবং বাকি চারজন বিদেশি নাগরিক। বিদেশি ক্রুদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি, একজন ইউক্রেনীয় ও একজন রাশিয়ার নাগরিক। এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ওমানি নৌবাহিনী ২১ ভারতীয়কে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও তিনজন নিখোঁজ ছিলেন।

হামলার ফলে জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এ কারণে জীবিত নাবিকদের সঙ্গে নিয়মিত ও স্থিতিশীল যোগাযোগ স্থাপনেও জাহাজ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

ভারত সরকার এ ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নয়াদিল্লি বলেছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ২৪ ভারতীয় নাগরিকের ওপর মার্কিন বাহিনীর সরাসরি হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ভারতের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে বেসামরিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা গভীর উদ্বেগের বিষয়। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা কমাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নতুন করে আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে একটি ‘কঠোর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ’ নোটও হস্তান্তর করেছে ভারত, বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

অন্যদিকে, সেন্টকম এক বিবৃতিতে হামলার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, পালাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ওমান উপসাগরে টহলরত মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটিকে একাধিকবার থামার নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। এরপর একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার ফলে ট্যাংকারটি অচল হয়ে পড়ে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় চালু করতে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। ইরান প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, আর এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ জোরদার করেছে।

এর আগে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছিল, ওমানের সোহার বন্দর থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে ট্যাংকারটির ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগে।

একই সময়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক জানায়, জাহাজটি থেকে পাঠানো জরুরি এসওএস বার্তায় ক্রুরা উল্লেখ করেছিলেন যে তাদের ইঞ্জিন রুমে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবারও ওমানের দক্ষিণ উপকূলে ভারতীয় নাবিকবাহী আরেকটি ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ওমানি কর্তৃপক্ষ ২৪ ভারতীয়কে উদ্ধার করলেও সেই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তখন প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্র: এনডিটিভি