কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদী থেকে পরিচয়হীন এক যুবকের বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-থানার পুলিশ। দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকায় দেহটি সম্পূর্ণ গলে বিকৃত রূপ ধারণ করেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভৈরব পৌর এলাকার অন্তর্গত পলতাকান্দা সংলগ্ন মেঘনা নদীর মোহনায়।
মঙ্গলবার বিকালের দিকে পলতাকান্দা এলাকার নদীপাড়ে একটি চটের বস্তা ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। বস্তাটির অবয়ব দেখে সন্দেহ হলে তারা সেটির কাছাকাছি যান এবং ভেতরে মানুষের মরদেহ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় নৌ-পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করা হয়। সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা দ্রুত নদীপাড়ে পৌঁছে ভাসমান বস্তাটি উদ্ধার করে ভেতর থেকে মৃতদেহটি বের করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, পানিতে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকার কারণে নিহতের শরীরে মারাত্মক পচন ধরেছে। মুখমণ্ডল ও শরীর বিকৃত হয়ে যাওয়ার ফলে প্রাথমিকভাবে নিহতের নাম-পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের ধারণা, মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর হতে পারে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নৌ-পুলিশের উপ-পরিদর্শক কামরুল হাসান জানান, নদী থেকে একটি প্লাস্টিক কিংবা চটের বস্তার ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছে পুলিশ। অপরাধীরা অন্য কোথাও তাকে হত্যা করার পর পরিচয় আড়াল করার উদ্দেশ্যে লাশটি বস্তায় ভরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটন এবং এটি হত্যা নাকি অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুরোপুরি স্পষ্ট হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।