পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায় গঙ্গার পানি বেড়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার লক্ষাধিক মানুষ এখন বন্যার কবলে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে গঙ্গাতীরবর্তী ভূতনির চর ও মানিকচকের উত্তর চণ্ডীপুর পঞ্চায়েত এলাকায়।
সোমবার মালদায় গঙ্গার পানির উচ্চতা বেড়ে ২৫ দশমিক ৬৪ মিটারে পৌঁছেছে। এই মাত্রা চরম বিপদসীমা (EDL) থেকে শূন্য দশমিক ৩৪ মিটার বেশি। পানির চাপ বাড়ায় উত্তর চণ্ডীপুর পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, মানিকচক ব্লকের উত্তর চণ্ডীপুর পঞ্চায়েতের বেশ কিছু এলাকা ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে।
বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় ভূতনির চরে থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিও সরিয়ে নিতে হয়েছে। এর আগে বন্যার আশঙ্কায় সেখানকার পুলিশ থানাও অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছিল। সোমবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পুরো চত্বর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ নতুন করে এই সিদ্ধান্ত নেয়।
মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল বন্যা পরিস্থিতির জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “আমি এখানকার ভূমিপুত্র. এখানকার মানুষের দুর্দশা আমি জানি। ভাঙন রোধের কাজ এবং ত্রাণসামগ্রী বিলির নামে আগের রাজ্য সরকার তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সীমাহীন দুর্নীতিই ভূতনির চরের বাসিন্দাদের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।”
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজেপি-শাসিত রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিধায়ক বলেন, “ভূতনিতে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। সব ত্রাণকেন্দ্রে রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।
বিনামূল্যে নৌকা পরিষেবা চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা ত্রাণশিবিরে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার চিকিৎসা করছেন। প্লাবিত এলাকার অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে।”
এদিকে, গত শনিবার মালদার উত্তর চণ্ডীপুরের কেশরপুরে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর গঙ্গার পানি প্রথম দফায় ২৯টি এলাকা প্লাবিত করে। পরদিন রবিবার প্লাবিত এলাকার সংখ্যা বেড়ে ৬২-তে দাঁড়ায়।
প্রশাসনের আশঙ্কা, গঙ্গার পানি আরও বাড়লে ভূতনির দক্ষিণ চণ্ডীপুর ও হীরানন্দপুর পঞ্চায়েতের নতুন নতুন এলাকাতেও পানি ঢুকে পড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে প্লাবিত এলাকার সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।