আগামী মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুসারে বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে এই পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। লিখিত পরীক্ষা আগামী ২০ মে শেষ হওয়ার পর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় বসছে ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই শিক্ষা কার্যক্রমের চূড়ান্ত মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ জন কমেছে।
পরীক্ষার নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ছাড়া বাকি সব বিষয়ে প্রথমে বহুনির্বাচনী এবং পরে সৃজনশীল অংশের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই দুই অংশের মাঝে কোনো বিরতি থাকবে না। এমসিকিউ অংশের জন্য ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল বা রচনামূলক অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।
সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের অন্তত আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। সঙ্গে থাকা প্রবেশপত্রটি সযত্নে রাখতে হবে এবং পরীক্ষা চলাকালে কোনোভাবেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে পূরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কোনোভাবেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
এছাড়া পরীক্ষার্থীরা শুধুমাত্র সাধারণ ও নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। রেজিস্ট্রেশন কার্ডে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফলাফলের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বহুনির্বাচনী, সৃজনশীল ও ব্যবহারিক—এই তিনটি অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে। কোনো একটি অংশে অকৃতকার্য হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে ফেল হিসেবে গণ্য করা হবে।