বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মৃত বোনের কঙ্কাল নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকে জিতু মুন্ডা

ভারতের ওড়িশায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। গ্রামীণ ব্যাংকে জমানো টাকা তুলতে এক ভাই নিজের মৃত বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকের অফিসে হাজির হয়েছেন। এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রচারের পর দেশে-বিদেশে এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

মৃত বোনের কঙ্কাল নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকে জিতু মুন্ডা

ভারতের ওড়িশায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। গ্রামীণ ব্যাংকে জমানো টাকা তুলতে এক ভাই নিজের মৃত বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকের অফিসে হাজির হয়েছেন। এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রচারের পর দেশে-বিদেশে এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

ঘটনার সূত্রপাত

ভারতের ওড়িশা রাজ্যে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের কেওনঝড় জেলার মালিপোসি শাখায় টাকা রাখতেন জিতু মুন্ডার বোন কলরা মুন্ডা৷ গত ২৬ জানুয়ারি করলা মারা যান৷ তাঁর অ্যাকাউন্টে তখন ১৯ হাজার ৩০০ টাকা৷

বোন কলরা মুন্ডার মৃত্যুর পর বড় ভাই জিতু বার বার ব্যাঙ্কে গিয়েছেন জমানো টাকা তোলার পদ্ধতি জানতে। ব্যাঙ্কের ম্যানেজার জবাব দিয়েছেন, যাঁর নামে অ্যাকাউন্ট তিনি না এলে টাকা তোলা যাবে না।

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের মুন্ডা উপজাতি অধ্যুষিত কেওনঝড় জেলায় বেড়ে ওঠা জিতু মুন্ডা প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ পাননি৷ গ্রামীণ ব্যাংকের অন্যসব নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যদের মতোই তিনিও নিরক্ষর এবং ব্যাংকের লেনদেন, আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে জানাশোনা নেই। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করতে হয়।

তিনি বহুবার নিজ জেলার মালিপোসি শাখার গ্রামীণ ব্যাংকের অফিসে গিয়ে একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছেন। বুঝানোর চেষ্টা করেছে অ্যাকাউন্ট বোনের নামে৷ বোন মারা গিয়েছেন। তাঁকে কী করে ব্যাঙ্কের শাখায় নিয়ে আসা সম্ভব! নিরক্ষর আদিবাসী মানুষটির কথায় গুরুত্বই দেননি ব্যাঙ্ককর্মীরা৷ তাঁদের একই কথা, টাকা তুলতে হলে যাঁর নামে অ্যাকাউন্ট, তাঁকেই আসতে হবে।

জিতু মুন্ডার পরবর্তী পদক্ষেপ

বারবার প্রত্যাখাত এবং বিরক্ত হয়ে জিতু মুন্ডা বোনের কবর খুঁড়ে ফেলেন। এরপর কঙ্কাল ঘাড়ে নিয়ে তিনি সরাসরি চলে আসেন গ্রামীণ ব্যাংকের অফিসে।

একটা আস্ত কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কের ভিতরে ঢোকার এ ঘটনায় মহা হইচই শুরু হয়। থানা পর্যন্ত খবর পৌঁছে গেলে পুলিশ এসে কঙ্কাল উদ্ধার করে। ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে এই 'কঙ্কাল বহন' দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের টনক নড়ে।

অবশেষে মৃত বোন কলরা মুন্ডার জমানো সাড়ে ১৯ হাজার টাকা ফিরে পান বড় ভাই জিতু মুন্ডা।

এই 'কঙ্কাল কাহিনী'র' পর ভারতের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর মানবেতর জীবন, টিকে থাকার লড়াই এবং রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা নতুন করে আলোচনায় আসে।  

একই সাথে এনজিও এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জনজীবনের ওপর আধিপত্য তৈরির পদ্ধতিগত নিপীড়ন নিয়ে মুখ খুলছেন অনেকেই।