টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রায় সব বড় রেকর্ডই নিজের করে নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। এবার দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে সাদা পোশাকে ৭০০০ রানের মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায় তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগামী শনিবার শুরু হতে যাওয়া ম্যাকাই টেস্টে প্রয়োজনীয় রান তুলে নতুন এই কীর্তি গড়ার সুযোগ রয়েছে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের সামনে।
১০৪ টেস্টের ১৯১ ইনিংসে মুশফিকের সংগ্রহ ৬৮৪২ রান। ফলে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ৭০০০ রানের ক্লাবে প্রবেশ করতে তার প্রয়োজন আর ১৫৮ রান। চলতি সপ্তাহে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পাওয়া প্রথম টেস্টে অবশ্য এক ইনিংসেই ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। পাঁচ নম্বরে নেমে ৫৫ বলে ৩৬ রান করে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের বলে স্লিপে স্টিভেন স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশফিক।
৩৯ বছর বয়সী মুশফিকের টেস্ট ব্যাটিং গড় ৩৯.০৯। ১৪টি সেঞ্চুরি ও ২৯টি ফিফটির পাশাপাশি তার নামের পাশে রয়েছে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি, যা টেস্টে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। একই মাঠে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২০২০ সালেও দ্বিশতক করেন মুশফিক। আর ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি।
টেস্টে মুশফিক ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটারের ৬০০০ রান নেই। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুমিনুল হক ৭৯ টেস্টের ১৪৭ ইনিংসে ৩৮.৩০ গড়ে করেছেন ৫২১০ রান। সাবেক ওপেনার ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ৭০ টেস্টের ১৩৪ ইনিংসে ৩৮.৮৯ গড়ে ৫১৩৪ রান নিয়ে রয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে চার হাজার রানের ক্লাবে আছেন সাকিব আল হাসান। তিন হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন হাবিবুল বাশার ও লিটন দাস।
২০০৫ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় মুশফিকুর রহিমের। অভিষেক ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৫৬ বলে ১৯ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ বলে ৩ রান করেছিলেন তিনি। এরপর পেরিয়ে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ম্যাচ, সর্বোচ্চ রান, অন্তত পাঁচ টেস্ট খেলা ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ গড়, সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ও সর্বোচ্চ ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন মুশফিক।
ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। দেশটির বিপক্ষে তাদের মাটিতে এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। এবার সিরিজ জয়ের আরও বড় সুযোগ সামনে টাইগারদের। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার অ্যারেনায় অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশ জিতলে কিংবা ম্যাচটি ড্র হলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়বে দলটি।