নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা অঙ্গরাজ্যে সামরিক বাহিনীর দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ অভিযানে তিন শতাধিক সশস্ত্র ডাকাত ও অপহরণকারী নিহত হয়েছে বলে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জামফারা অঙ্গরাজ্যের তথ্য কমিশনার মাহমুদ মুহাম্মদ দান্তাওয়াাসা এক বিবৃতিতে জানান, গুম্মি জেলায় সক্রিয় থাকা অপরাধীদের একটি বিশাল আস্তানায় এই সফল অভিযান পরিচালনা করে নিরাপত্তা বাহিনী।
আফ্রিকার এই দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই গবাদিপশু লুটপাট, অপহরণ ও জঙ্গি তৎপরতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত। এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কেবল জনপদে লুটপাটই চালায় না, বরং কৃষকদের জমিতে চাষাবাদের জন্য জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে এবং চাঁদা না পেলে ফসল ধ্বংস করে দেয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এসব অপরাধী চক্রের সঙ্গে উগ্রপন্থী জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর যোগসূত্র ও সমন্বয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভঙ্গুর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে তাদের প্রভাব বিস্তারে সাহায্য করছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানিয়েছে, বুধবার রাতের দিকে প্রায় এক হাজার সশস্ত্র অপরাধী দলবদ্ধভাবে গবাদিপশু লুট করে নিয়ে যাওয়ার পর সেনাবাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল যৌথভাবে এই প্রতিরোধ অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুবকর মুহাম্মদ জানান, রাতভর এবং পরবর্তী দিন সকাল পর্যন্ত চলা তীব্র বন্দুকযুদ্ধে ৩০০ জনেরও বেশি ডাকাত প্রাণ হারায়। এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ওই একই ঘাঁটিতে সামরিক বাহিনী অভিযান চালাতে গিয়ে অপরাধীদের বিপুল সংখ্যার কারণে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানায়। জামফারা প্রশাসন এই অভিযানকে এই অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখছে।
নাইজেরিয়া বর্তমানে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম ও আইএসডব্লিউএপির মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে নাশকতা চালাচ্ছে, তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন সহায়তায় পরিচালিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সরকার কিছু ইতিবাচক ফল পেয়েছে। যেমন গত মে মাসে এক যৌথ অভিযানে ইসলামিক স্টেটের এক শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ প্রায় ২০০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছিল।
তা সত্ত্বেও, তীব্র দারিদ্র্য এবং দুর্বল শাসনব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে, যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এখন একটি নিয়মিত ও উদ্বেগজনক সংকট। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জিহাদিদের কবল থেকে ৪০ জনেরও বেশি শিশুকে মুক্ত করার একটি অভিযানে সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরও কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘটায় নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে, কারণ ওই এলাকাটিকে এতদিন তুলনামূলকভাবে নিরাপদ মনে করা হতো। চলমান এই সামরিক সাফল্য সরকারের জন্য স্বস্তির খবর হলেও, নাইজেরিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এখনো এক বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।