নিউজিল্যান্ড সফরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত নাইটক্লাব ঘটনার জেরে বড় অঙ্কের শাস্তির মুখে পড়েছেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের ব্যাটার হ্যারি ব্রুক। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। যদিও অধিনায়কত্ব হারানোর আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ দিয়েই বিষয়টির নিষ্পত্তি করেছে বোর্ড।
ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ৩১ অক্টোবর, ইংলিশ দৈনিক ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডের আগের রাতে একটি নাইটক্লাবে ঢোকার সময় নিরাপত্তাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন ব্রুক। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সে সময় তাকে অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় মনে হওয়ায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে তার শারীরিক সংঘর্ষ হয় এবং ঘটনার মধ্যে ব্রুকও আঘাত পান, যদিও তা গুরুতর ছিল না।
ঘটনার পর নিজ উদ্যোগেই বিষয়টি ইসিবিকে অবহিত করেন ব্রুক। পরে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ তদন্তে তার আচরণকে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কেন্দ্রীয় চুক্তির বিধি অনুযায়ী একজন খেলোয়াড়ের রিটেইনারের সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার সুযোগ রয়েছে। সেই নিয়ম অনুসারেই ব্রুকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
ইসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, ব্রুককে ‘চূড়ান্ত সতর্কতা’ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বোর্ডের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার বিষয়ে অবগত ছিলাম এবং আনুষ্ঠানিক ও গোপন শৃঙ্খলাবিধির মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং ক্ষমা চেয়েছেন।’
এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন হ্যারি ব্রুকও। তিনি বলেন, ‘আমার আচরণের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমি পুরোপুরি মেনে নিচ্ছি, আমার আচরণ ভুল ছিল এবং এতে আমি নিজে ও ইংল্যান্ড দলকে বিব্রত করেছি। ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। সতীর্থ, কোচ ও সমর্থকদের হতাশ করায় আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। এই ঘটনা আমাকে দায়িত্ববোধ, পেশাদারত্ব এবং দেশের প্রতিনিধিত্বের মানদণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। ভবিষ্যতে মাঠে ও মাঠের বাইরে নিজের আচরণের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
ঘটনার পরদিনই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামেন ব্রুক। তবে সেই ম্যাচে ১১ বল খেলে মাত্র ৬ রান করে আউট হন তিনি। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড দুই উইকেটে ম্যাচটি হারায় এবং ব্রুকের নেতৃত্বে দলটি ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়।
এই বিতর্কের এক মাসের মধ্যেই শুরু হয় অ্যাশেজ সিরিজ। সমালোচনা সত্ত্বেও ইংল্যান্ড টেস্ট দলে সহ-অধিনায়ক হিসেবে রাখা হয় ব্রুককে। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১০ ইনিংসে তার সংগ্রহ ৩৫৮ রান, যেখানে কোনো শতক ছিল না। দুটি অর্ধশতকের সুবাদে তার গড় দাঁড়ায় ৩৯.৭৭। সিরিজেও সুবিধা করতে পারেনি ইংল্যান্ড, ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ হারে দলটি।