চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরে এক নারীর গোসলের আপত্তিকর ভিডিও গোপনে ধারণের পর তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে ওমর ফারুক নামের বাইশ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালের দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
অভিযুক্ত ওমর ফারুক চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার পলাশপাড়ার বাসিন্দা ফরজ আলীর সন্তান। ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার সবুজপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা তাঁর নিজ বাসভবনের নিচতলার স্নানাগারে অবস্থান করার সময় ভেন্টিলেটরের দিকে লক্ষ করে দেখতে পান, পাশের একটি আমগাছে চড়ে এক যুবক মুঠোফোনের সাহায্যে ভেতরের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করছে। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত ফারুক দ্রুত গাছ থেকে নেমে সেখান থেকে চম্পট দেয়।
পরবর্তীতে ওই তরুণ নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগ স্থাপন করে। সে সময় ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে কোনো উপায় না দেখে ভুক্তভোগী নারী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় আইনি আশ্রয় নেন।
এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর অতি দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।