উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ উল্লেখ করেন, দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের রপ্তানি যোগ্যতা টিকিয়ে রাখতে পরিবেশবান্ধব শক্তির প্রসার এখন সময়ের দাবি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাজেটের এই আর্থিক প্রণোদনাগুলো যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম। তিনি দেশের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, সারা বিশ্বে যেখানে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৩৪ শতাংশ আসে পরিবেশবান্ধব উৎস থেকে, সেখানে আমাদের দেশে এই হার মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। একই সাথে দেশের জ্বালানি খাত ক্রমান্বয়ে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও লিথিয়াম ব্যাটারিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের ওপর কর মওকুফের কারণে ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর খরচ প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ধরা’র সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী বলেন, এই খাতের সার্বিক উন্নয়নে কেবল সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও বড় বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।