আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের আলোচনা ও বিতর্কে বেশ চাপের মুখে পড়েছেন ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
চোট আর ফর্মহীনতায় ভোগা অভিজ্ঞ তারকা নেইমারকে চূড়ান্ত স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরেই মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত। ব্রাজিলের সাবেক গোলরক্ষক ভাগনার ফের্নান্দো ভেলোসো কোচের এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি এক হাত নিয়ে একে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
'নোভাব্রাসিল এম কাম্পো' নামক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভেলোসো স্পষ্ট জানান, দল নির্বাচনের দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকলে তিনি কোনোভাবেই নেইমারকে বৈশ্বিক এই আসরের দলে রাখতেন না। তাঁর মতে, ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তরুণ ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোকে বাদ দিয়ে নেইমারকে সুযোগ দেওয়াটা বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় এক বিস্ময়।
সাবেক এই ফুটবলার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জোয়াও পেদ্রো যখন সব ধরণের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নিয়মিত গোল করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন, তখন নেইমার অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও মাঠের পারফরম্যান্সে নিজের নামের প্রতি বিচার করতে পারছেন না। এমন চোটপ্রবণ ও অফ-ফর্মে থাকা খেলোয়াড়কে দলে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভেলোসো আরও দাবি করেন, নেইমার গত মরসুমে নিজের সুবিধাজনক ম্যাচগুলো বেছে বেছে খেলেছেন। বড় এবং শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে মাঠে না নেমে তিনি কেবল দুর্বল প্রতিপক্ষকে বেছে নিয়েছিলেন যেন সহজে দলে নিজের গুরুত্ব জাহির করতে পারেন, যদিও সেই পরিকল্পনাতেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
তবে চারদিকের এত সমালোচনার মাঝেও আনচেলত্তির এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি সম্ভাব্য মনস্তাত্ত্বিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন এই সাবেক গোলরক্ষক। তিনি মনে করেন, বর্তমান সেলেসাও শিবিরে একজন যোগ্য নেতা এবং অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বের চরম অভাব রয়েছে। সেই শূন্যস্থান পূরণের তাগিদ থেকেই হয়তো সমর্থকদের মনে কিছুটা আশা জাগাতে নেইমারকে দলে টানা হয়েছে। দলটিতে বর্তমানে কোনো আকর্ষণ বা কারিগরি নেতৃত্ব দেওয়ার মতো বড় তারকা না থাকায় নেইমারের অন্তর্ভুক্তি ভক্তদের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনেছে।
এদিকে চারপাশের এই তুমুল সমালোচনা ও বিতর্কের মাঝেও পুনরায় দেশের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি খোদ নেইমার। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে আল-হিলালের এই তারকা ফরোয়ার্ড জানান, দল ঘোষণার দিন চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম দেখার পর আনন্দের আতিশয্যে তিনি সারারাত ঘুমাতে পারেননি।
নেইমার তাঁর সেই আবেগময় মুহূর্তের স্মৃতি চারণ করে বলেন, দল ঘোষণার রাতে তিনি ভোর পর্যন্ত জেগে পুরনো সব ভিডিও দেখছিলেন এবং ক্রমাগত কেঁদেছেন। পাশে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা ঘুমিয়ে থাকলেও যন্ত্রণাময় চোট কাটিয়ে ফেরার কঠিন দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দেশের জার্সি গায়ে দেওয়ার এই সুযোগ তাঁর সব কষ্টকে সার্থক করেছে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্বকাপের মহোৎসব যত ঘনিয়ে আসবে, নেইমারকে ঘিরে ফুটবল মহলে এই আলোচনা ও সমালোচনা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে সব বিতর্ককে পাশে ঠেলে কোচ কার্লো আনচেলত্তি বিশ্বাস রাখছেন, তরুণ ও অনভিজ্ঞ এই ব্রাজিল দলটিকে মাঠ ও মাঠের বাইরে সঠিক দিশা দেখাতে নেইমারের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।