মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

নিজ দেশেই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু, আগাম নির্বাচন নিয়ে রয়েছেন বিপাকে

ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার যে পরিকল্পনা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু করেছিলেন, তা এখন উল্টো তার সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিজের জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি। ইসরায়েলের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পার্লামেন্টে বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা বাধ্যতামূলক। এই অনিশ্চয়তা এড়াতে এবং আগাম নির্বাচন ঠেকা

নিজ দেশেই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু, আগাম নির্বাচন নিয়ে রয়েছেন বিপাকে
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার যে পরিকল্পনা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু করেছিলেন, তা এখন উল্টো তার সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিজের জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি। ইসরায়েলের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পার্লামেন্টে বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা বাধ্যতামূলক। এই অনিশ্চয়তা এড়াতে এবং আগাম নির্বাচন ঠেকাতে বর্তমানে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে নেতানিয়াহু প্রশাসন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, এই মুহূর্তে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নেতানিয়াহুর পরাজয়ের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঝুঁকি এড়াতে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টি তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দসহ নানা কৌশল অবলম্বন করছে। মূলত ইরানের সাথে সংঘাতের সূচনালগ্নে নেতানিয়াহুর অংক ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তারা আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশা করেছিলেন এবং মার্চের শুরুতে লিকুদ পার্টি নিজেদের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে রয়েছে বলে দাবিও করেছিল। অক্টোবর মাসের নির্ধারিত নির্বাচনের আগেই ভোট সেরে নেওয়ার একটি পরিকল্পনাও তখন তাদের বিবেচনায় ছিল।

তবে যুদ্ধের চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মূল লক্ষ্যগুলো অর্জিত না হওয়ায় আগের সেই হিসাব-নিকাশ এখন ভেস্তে গেছে। ফলে নতুন করে জনমত সংগ্রহের বদলে এখন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজা ইস্যু থেকে জনদৃষ্টি সরিয়ে ইরানের দিকে নিবদ্ধ করে সাময়িকভাবে কিছু সমর্থন পাওয়া গেলেও সামগ্রিক ভোটের সমীকরণে তা বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকেই নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তার প্রভাবে তিনি ক্রমাগত জনসমর্থন হারাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

যুদ্ধের কারণে দেশটিতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৬ লাখ ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিরক্ষা খাতের বিশাল ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি অতি রক্ষণশীল রাজনৈতিক মিত্রদের সমর্থন ধরে রাখতে গিয়ে সরকারকে এখন অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, সময়ক্ষেপণ করে যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা ধরে রাখাই এখন নেতানিয়াহুর রাজনীতির মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।