বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২ এর নভোচারীরা

মহাকাশ ভ্রমণের ইতিহাসে দূরত্বের সব রেকর্ড ভেঙে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। চাঁদের কক্ষপথ সফলভাবে প্রদক্ষিণ শেষে বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার ভোর ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ওরিয়ন মহাকাশযানটি প্রশান্ত মহাসাগরের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে অবতরণ করে। ল্যান্ডিংয়ের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদযাপন করতে কলাম্বিয়া মেমোরিয়াল স্পেস সেন্টারে জড়ো হওয়া উৎসাহীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২ এর নভোচারীরা
ছবিঃ সংগৃহীত

মহাকাশ ভ্রমণের ইতিহাসে দূরত্বের সব রেকর্ড ভেঙে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। চাঁদের কক্ষপথ সফলভাবে প্রদক্ষিণ শেষে বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার ভোর ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ওরিয়ন মহাকাশযানটি প্রশান্ত মহাসাগরের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে অবতরণ করে। ল্যান্ডিংয়ের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদযাপন করতে কলাম্বিয়া মেমোরিয়াল স্পেস সেন্টারে জড়ো হওয়া উৎসাহীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

দীর্ঘ দশ দিনের এই অভিযানে ওরিয়ন নভোযানটি প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৪৮১ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছে। এর মাধ্যমে ভেঙে গেছে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের গড়া রেকর্ড। সেই অভিযানে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার বা ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরে গিয়েছিলেন। গত ২ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘটল প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়নের নিরাপদে আছড়ে পড়ার মধ্য দিয়ে।

পানির উপরিভাগে অবতরণের সময় মহাকাশযানটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২০ মাইল। যদিও এই গতি আপাতদৃষ্টিতে কম মনে হতে পারে, তবে বিজ্ঞানীদের মতে, মহাকাশ থেকে আসা যানের জন্য পানির আঘাত একটি শক্ত দেয়ালের মতো অনুভূত হয়। অবতরণের পরপরই ওরিয়নের নিচের অংশে থাকা পাঁচটি কমলা রঙের এয়ারব্যাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফুলে ওঠে, যা ক্যাপসুলটিকে সাগরে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। উদ্ধার অভিযানের এই প্রতিটি পদক্ষেপ দীর্ঘ বছরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মহড়ার ভিত্তিতে সাজানো হয়েছিল।

অবতরণের পর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার নিশ্চিত করেন যে, চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে একে একে নভোচারীরা বেরিয়ে এলে হিউস্টনের কন্ট্রোল রুমে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। দলের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান সবার শেষে বেরিয়ে আসেন। এরপর দ্রুততম সময়ে তাদের উদ্ধারকারী নৌকায় তুলে হেলিকপ্টার যোগে ‘জন পি মুর্থা’ নামক যুদ্ধজাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়।

উন্নত চিকিৎসাসুবিধা সম্বলিত সেই জাহাজে ক্রিস্টিনা কোচ ও ভিক্টর গ্লোভারসহ চার নভোচারীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘ সময় ওজনহীন পরিবেশে থাকার পর তাদের রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, স্নায়ুতন্ত্র ও শরীরের ভারসাম্য ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করে দেখছেন চিকিৎসকরা। এই অভিযানের সাফল্য ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের পথ আরও প্রশস্ত করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।