“ক্রিড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোর-কিশোরীদের প্রতিভা বিকাশ ও ভবিষ্যৎ জাতীয় ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে নরসিংদীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর জমকালো ফাইনাল। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রায়পুরা উপজেলা।
রোববার (১০ মে) বিকেলে নরসিংদী জেলা স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে শত শত দর্শকের উপস্থিতিতে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা ক্রীড়া অফিস সূত্রে জানা যায়, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, মার্শাল আর্ট, সাঁতার, দাবা ও অ্যাথলেটিক্সসহ মোট ১০টি ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। উপজেলা পর্যায়ের বাছাই পর্ব শেষে চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় জেলা স্টেডিয়ামে।
ফুটবল ইভেন্টের ফাইনালে নরসিংদী সদর উপজেলা ও রায়পুরা উপজেলার মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই জয় নিশ্চিত করতে না পারায় খেলা গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। সেখানে রায়পুরা উপজেলা জয়লাভ করে শিরোপা ঘরে তোলে।
উল্লেখ্য, গত ২ মে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট স্টেডিয়াম থেকে সারাদেশে একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ উদ্বোধন করেন।ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব, জেলা বিএনপির সভাপতি ও নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিরিন সুলতানা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মুহাম্মদ শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কলিম মোল্লা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা এবং সদর মডেল থানার ওসি এম এ মামুনসহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এছাড়া জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মো. আওলাদ হোসেন মোল্লা, জাহিদুল কবির ভূঁইয়া, রনি ফকির, নুর আহমদ চৌধুরী মানিকসহ সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়িয়ে একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।