বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি ঘোষণা সরকারের

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি ঘোষণা সরকারের

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় তিনি এ বৃহৎ পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে তাদের নিজ নিজ বাড়ি বা আঙিনায় ১ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বাজেট বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ২৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর ব্লক বাগানে ৪ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ হাজার ৭২৭ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগানে ৩৭ লাখ ২৭ হাজার, ৪ হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগানে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৬ হাজার এবং বসতবাড়িভিত্তিক বনায়নের আওতায় ৫৬ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দেশের উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশকে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও টেকসই করতে ‘Circular Future Model’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনার বিষয়টিও বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেটে মোট নিট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে দেশের ৫৫তম বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। বর্তমান সরকারের আমলে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটি প্রথম বাজেট। সংসদে উপস্থাপনের আগে বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেটটি অনুমোদন করা হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি দেন। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে।