অস্কারের দীর্ঘ ৯৮ বছরের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন চিত্রগ্রাহক অটাম ডুরান্ড আরকাপাউ। ‘সিনার্স’ চলচ্চিত্রে অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফির জন্য সেরা চিত্রগ্রাহকের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে প্রথম নারী হিসেবে এই সম্মানজনক বিভাগে অস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করলেন ফিলিপিনো ও আফ্রিকান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত এই শিল্পী।
এবারের আসরে এই বিভাগে আরকাপাউকে লড়তে হয়েছে ড্যান লাউস্টসেন (ফ্রাঙ্কেনস্টাইন), ড্যারিয়াস খোঞ্জি (মার্টি সুপ্রিম), মাইকেল বাউম্যান (ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার) এবং অ্যাডলফো ভেলোসো (ট্রেন ড্রিমস)-এর মতো নামী সব সিনেমাটোগ্রাফারদের সঙ্গে। সবাইকে পেছনে ফেলে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন তিনি। পুরস্কার গ্রহণের সময় অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আরকাপাউ। তিনি তার সাফল্যের জন্য ‘সিনার্স’ সিনেমার পরিচালক রায়ান কুগলারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, রায়ানের মতো একজন দূরদর্শী নির্মাতার সঙ্গে কাজ করতে পারা তার ক্যারিয়ারের বড় প্রাপ্তি।
বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে তিনি ডলবি থিয়েটারে উপস্থিত সকল নারীকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, অসংখ্য নারীর সমর্থন ও ভালোবাসার কারণেই আজ তিনি এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছেন। এছাড়া তিনি রেচেল মরিসন, আরি ওয়েগনার এবং ম্যান্ডি ওয়াকারের মতো পূর্বসূরি নারী চিত্রগ্রাহকদেরও স্মরণ করেন, যারা ইতিপূর্বে মনোনয়ন পেলেও পুরস্কার জয়ের স্বাদ পাননি।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনে আরকাপাউ এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দেন। তিনি বলেন, ৯৮ বছর পর এই অর্জনটি বিশ্বের অনেক ছোট মেয়েকে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস দেবে। আজ তারা জানবে যে, সিনেমাটোগ্রাফির মতো চ্যালেঞ্জিং বিভাগেও নারীরা বিশ্বসেরা হতে পারে।
উল্লেখ্য, রায়ান কুগলার পরিচালিত ‘সিনার্স’ সিনেমাটি এবারের অস্কার আসরে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে। সেরা চিত্রগ্রাহকের পাশাপাশি ছবিটি সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য ও সেরা আবহ সংগীতের পুরস্কারও জিতে নিয়েছে। এছাড়া এই ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন তারকা মাইকেল বি জর্ডান।