দেশে অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) পদ্ধতি প্রবর্তনকে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মোড়কজাত খাবারের সামনে স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অকাল মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং সম্পর্কিত শক্তিশালী ও কার্যকর বিধান প্রণয়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স, পাবলিক হেলথ ল’ ইয়ার্স নেটওয়ার্ক এবং সিটিজেন নেটওয়ার্ক (সিনেট)।
আলোচনায় উঠে আসে যে, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স-ফ্যাটযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয় এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। অনেক ক্ষেত্রে চটকদার মোড়কের আড়ালে সঠিক পুষ্টিগুণ ও ক্ষতিকর উপাদানের তথ্য না থাকায় সাধারণ ক্রেতারা বিভ্রান্ত হন। ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা চালু হলে ভোক্তারা সহজেই খাবারের মান সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য বাছাই করতে পারবেন।
বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা জানান, চিলি ও কানাডাসহ লাতিন আমেরিকার বেশ কিছু দেশে এ ধরনের বাধ্যতামূলক সতর্কবার্তা ব্যবহারের ফলে অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমেছে। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্ব খাদ্য সংস্থাও এই নীতি বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।
সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রণীত ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর খসড়া উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে এটি কার্যকর করতে হলে স্পষ্ট ও বড় ফন্টের সতর্কতামূলক প্রতীক, নির্দিষ্ট রঙ এবং বাধ্যতামূলক আইনি কাঠামোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তারা। পাশাপাশি শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ও জরিমানার বিধান রাখার দাবি জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য নীতি। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এটি বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
উক্ত আলোচনা সভায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব, বিএসটিআই’র উপপরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সভায় সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।