বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

অশ্রু, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ বিদায়

অশ্রুভেজা চোখ, পুষ্পস্তবক আর গভীর নীরবতায় চিরবিদায় জানানো হলো বাংলাদেশের শিল্পকলা ও পাপেট আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বরেণ্য চিত্রশিল্পী একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারকে।

অশ্রু, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ বিদায়
ছবি : সংগৃহীত

অশ্রুভেজা চোখ, পুষ্পস্তবক আর গভীর নীরবতায় চিরবিদায় জানানো হলো বাংলাদেশের শিল্পকলা ও পাপেট আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বরেণ্য চিত্রশিল্পী একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারকে।

আজ মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর বেলা ১১টার দিকে এই গুণী মানুষের মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসা হয়।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রিয় ব্যক্তিত্বকে শেষ নজর দেখতে এসে সমবেত হন বিভিন্ন প্রজন্মের শিল্পী, সাহিত্যিক, নাট্যকর্মী, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেখানে শুরুতেই সরকারের পক্ষে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদ।

পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিকভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে দুরন্ত টেলিভিশন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট, কর্মজীবী নারী, বটতলা, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, গোলাম মোস্তফা একাডেমি, পাঠশালা, প্রাচ্যনাট, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, উদীচী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বঙ্গরঙ্গ নাট্যদল, থিয়েটার, আবদুল্লাহ আল মামুন থিয়েটার স্কুল, নাট্যম রেপার্টরি, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, স্বনন, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, কণ্ঠশীলন, স্রোত আবৃত্তি সংসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় অসংখ্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন।

এর পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে উপস্থিত হন দেশের অগ্রগণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, ত্রপা মজুমদার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, শিল্পী মনিরুজ্জামান, কেরামত মাওলা, কাজী তামান্না ও গোলাম রাব্বানীসহ আরও অনেকে।

শ্রদ্ধা জ্ঞাপন পর্ব শেষে এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের স্মরণে একটি সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে মুস্তাফা মনোয়ারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, অনন্য শিল্পদর্শন এবং দেশে নতুন ঘরানার সংস্কৃতিকর্মী ও পাপেট শিল্প গড়ে তোলার পেছনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ, চিত্রশিল্পী আনোয়ার হোসেন ও কেরামত মওলাসহ অন্য আলোচকেরা।

জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় এই বীর সন্তানকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এরপর চারুকলার এই দিকপালের মরদেহ দ্বিতীয় জানাজার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চারুকলা অনুষদ ও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ বা নিউমোনিয়াজনিত শারীরিক জটিলতা নিয়ে চিকিৎসালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াই শেষে সোমবার সকালে ৯১ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।