বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার রোধে উদ্যোগ জরুরি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মানুষ ও প্রাণিকুলকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ও অযৌক্তিক ব্যবহার প্রতিরোধে প্রশাসন, পশু চিকিৎসক, মাঠপর্যায়ের কর্মী এবং খামারিদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার রোধে উদ্যোগ জরুরি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

মানুষ ও প্রাণিকুলকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ও অযৌক্তিক ব্যবহার প্রতিরোধে প্রশাসন, পশু চিকিৎসক, মাঠপর্যায়ের কর্মী এবং খামারিদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের অপপ্রয়োগ রোধ করা অত্যন্ত জরুরি।

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন (ভিএজি) বাস্তবায়ন’ সংক্রান্ত একটি সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ড (এএমআরএমপিটিএফ) প্রকল্পের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই দিকনির্দেশনামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সতর্ক করে বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত এবং অনিয়মিত ব্যবহারের ফলে মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, যা সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় ধরনের হুমকি। একইভাবে প্রাণিসম্পদ খাতেও এর যথেচ্ছ ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক খামারি পশু-পাখির রোগ দ্রুত সারানোর উদ্দেশ্যে না বুঝেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে থাকেন। এর ফলে যে সুদূরপ্রসারী ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়ে তাদের ন্যূনতম ধারণা নেই। এই অজ্ঞতা ও অসচেতনতাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিবন্ধিত পশু চিকিৎসকের লিখিত পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই যাতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বা ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে তদারকি আরও জোরদার করতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাঠপর্যায়ে প্রচার বাড়াতে হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও দেশের প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. মো. বয়জার রহমান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউওএএইচ) জাতীয় এএমআর পরামর্শক ড. মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত অন্যান্য চিকিৎসা ও প্রাণিবিশেষজ্ঞরা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) এর ভয়াবহতা এবং ‘ওয়ান হেলথ’ বা সমন্বিত স্বাস্থ্য ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য প্রদান করেন।