আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কামান ও মর্টারের গোলাবর্ষণে দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া সীমান্ত সংঘর্ষে আফগানিস্তানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে।
আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে খোস্ত প্রদেশের সাদকো গ্রামে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ঘরবাড়ি এবং যাযাবরদের তাঁবু লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘একটি যাযাবর পরিবারের চার সদস্য—একজন নারী, একজন পুরুষ এবং দুই শিশু—নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনটি শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।’ খোস্ত প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয় থেকেও নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসেইন আন্দ্রাবি সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাকিস্তান অত্যন্ত সতর্কতা ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনা করেছে যাতে কোনো সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হন। তবে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা কঠিন হওয়ায় প্রকৃত চিত্র পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে আরও তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে আফগানিস্তানে অন্তত ৫৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৪টি শিশু রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।