শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

প্রান্তিক অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হলে সুপ্ত মেধার বিকাশ ঘটবে: ডা. জুবাইদা রহমান

দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের মানুষের কাছে শিক্ষার অধিকার ও পর্যাপ্ত সুযোগ পৌঁছে দিতে পারলে প্রকৃত মেধা খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রান্তিক অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হলে সুপ্ত মেধার বিকাশ ঘটবে: ডা. জুবাইদা রহমান
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের মানুষের কাছে শিক্ষার অধিকার ও পর্যাপ্ত সুযোগ পৌঁছে দিতে পারলে প্রকৃত মেধা খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে প্রান্তিক পর্যায়ের তরুণদের সুপ্ত প্রতিভা প্রস্ফুটিত হওয়ার পথ আরও সহজ হবে।

রাজধানীর বি এ এফ শাহীন কলেজ মিলনায়তনে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন শোকেসিং’ প্রতিযোগিতার জেলা পর্যায়ের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি)-এর ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’-এর উদ্যোগে দেশজুড়ে এই মেলার আয়োজন করা হয়। এবারের আয়োজনের মূল সুর ছিল বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও মেধার বিকাশে বাংলাদেশকে সবার আগে রাখা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনুন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার আগ্রহের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী, ঝালকাঠির রাজাপুর, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ এবং দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মতো বিভিন্ন অঞ্চলের স্কুলগুলো নানা সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত। বিশেষ করে বন্যাপীড়িত ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে এই অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো প্রায়শই অবহেলার শিকার হয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে অনেক স্কুলের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়লেও মেধাবী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে পড়েনি। শিক্ষকেরাও নানাবিধ কষ্টের মধ্যেও অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান বজায় রেখেছেন। এই অনগ্রসর এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য যদি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা যায়, তবে তারা দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে অভূতপূর্ব অবদান রাখতে পারবে এবং হয়তো তাদের মধ্য থেকেই কেউ বিশ্বমঞ্চে দেশের গৌরব বয়ে আনবে।

বক্তব্যকালে নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী ৫৪ নম্বর সাউথ বিদ্যালয়ের একটি জীর্ণ দেয়ালে লেখা গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণী তাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল, মানুষ কখনো ব্যর্থ হয় না—হয় সে জয়ী হয়, না হয় নতুন কিছু শেখে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এমন বহু জরাজীর্ণ দেয়ালে জীবনের গভীর শিক্ষণীয় বার্তা লুকিয়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই বিজ্ঞান মেলাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের দলগত কাজের দক্ষতা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময় করে তোলা জরুরি।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথি জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৩৭টি দলের মধ্য থেকে চূড়ান্ত বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। মেধা ও উদ্ভাবনী নৈপুণ্য প্রদর্শন করে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান লাভ করে যথাক্রমে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং হলি ক্রস কলেজ।