বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী শাকিলের খোলা চিঠি

বাংলাদেশের এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী শাকিলের খোলা চিঠি
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এই চিঠিতে তিনি দেশের এক্সট্রিম ও এন্ডুরেন্স স্পোর্টস, বিশেষ করে পর্বতারোহীদের রাষ্ট্রীয় অবমূল্যায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব নিয়ে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

চিঠির শুরুতে শাকিল সরকারের সাম্প্রতিক ক্রীড়া ভাতা ও স্পোর্টস কার্ড চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান। উল্লেখ্য যে, ৩০ মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে মাসিক ১ লাখ টাকা ভাতা ও কার্ড প্রদানের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। তবে শাকিল অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানান যে, এই তালিকায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং খেলা হিসেবে স্বীকৃত পর্বতারোহণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

নিজের অর্জনের কথা তুলে ধরে এই পর্বতারোহী জানান, তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পায়ে হেঁটে ১৩৭২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এবং যমুনা নদী সাঁতরে ৮৪ দিনে এভারেস্ট জয় করেছেন, যা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক বিরল রেকর্ড। এছাড়া তিনি হিমালয়ের দুর্গম ‘দ্য গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইল’-এর ১৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন, যা বিশ্বে মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন করতে পেরেছেন। এতসব আন্তর্জাতিক সাফল্য সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো সহযোগিতা বা স্বীকৃতি না পাওয়ায় তিনি হতাশ।

শাকিল তাঁর চিঠিতে ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড ও নেপালের উদাহরণ টেনে দেখান কীভাবে সেসব দেশে পর্বতারোহীদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (যেমন: পদ্মশ্রী, নাইটহুড বা বিশেষ বীরত্বসূচক পদক) এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে ‘স্পোর্টস অ্যাডভেঞ্চার অ্যান্ড মাউন্টেনিয়ারিং কনফেডারেশন’ নামে একটি সংস্থা থাকলেও সাধারণ পর্বতারোহীরা তাদের কোনো কার্যক্রম বা সহযোগিতা কখনো চোখে দেখেনি।

চিঠির শেষাংশে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় অনেক প্রতিভাবান তরুণ এই ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ খেলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি নিজেও হয়তো শীঘ্রই এই পথ ছাড়তে বাধ্য হবেন। তাই বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে সমুন্নত রাখতে পর্বতারোহণ ও এন্ডুরেন্স স্পোর্টসকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আওতায় আনা এবং ক্রীড়া কার্ডসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। শাকিলের এই চিঠি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।