হিমালয়কন্যা খ্যাত দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ঋতু পরিবর্তনের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ভোরের ঘন কুয়াশার চাদর, উত্তুরে মৃদু বাতাস এবং ক্রমান্বয়ে পারদ নেমে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সীমান্ত জনপদটিতে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর ঠিক একদিন আগেই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার এই অঞ্চলের সর্বনিম্ন পারদ ছিল ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা আরও দুই ডিগ্রি নিচে নেমে আসায় স্থানীয় বাসিন্দারা ভোরে বাড়তি শীতের আমেজ অনুভব করছেন।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েকদিন ধরেই স্থানীয় আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতিতে বদল আসছে। মধ্যরাত পেরিয়ে ভোর নামতেই গোটা এলাকা হালকা কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে, সঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস। তবে মধ্যাহ্নে রোদ থাকায় আবহাওয়া অনেকটাই আরামদায়ক থাকলেও রাত বাড়ার সাথে সাথে ঠান্ডা বাড়তে থাকে।
এমন মনোরম সকালে অনেককেই প্রকৃতির স্নিগ্ধ রূপ উপভোগ করতে প্রাতর্ভ্রমণে বের হতে দেখা যাচ্ছে। তবে ঋতু পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় পরিবারগুলো বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের সুরক্ষায় হালকা গরম কাপড়চোপড় প্রস্তুত রাখতে শুরু করেছে।
এলাকাবাসীর বর্ণনামতে, সূর্য ওঠার আগ মুহূর্তে মাঠ-ঘাট ও মেঠোপথ কুয়াশাচ্ছন্ন থাকছে। সকালের রোদ ছড়িয়ে পড়ার পর কিছুটা উষ্ণ ভাব মিললেও সন্ধ্যা নামলেই ফের হিমেল অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে চারপাশের বাতাসে।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় এই আবহাওয়াজনিত পরিবর্তনের বিষয়ে জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রার যে ক্রমহ্রাসমান ধারা দেখা যাচ্ছে, তা ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা মাত্র। সামনের দিনগুলোতে ভোরের এই শীতল ভাব আরও তীব্র হতে পারে এবং সামগ্রিক তাপমাত্রা আরও নিচে নামার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।