বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি ‎মামলায় দুই আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত অত্যন্ত সংবেদনশীল লাল টেলিফোনের তামার তার চুরির মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া রঞ্জন চন্দ্র ও ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি ‎মামলায় দুই আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে
ছবি : সংগৃহীত

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত অত্যন্ত সংবেদনশীল লাল টেলিফোনের তামার তার চুরির মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া রঞ্জন চন্দ্র ও ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রঞ্জন চন্দ্র সচিবালয়ের একজন আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই দুই আসামিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) উপপরিদর্শক ইনজামুল হক আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদুল আজহার টানা সরকারি ছুটি ২৫ মে থেকে শুরু হয়ে ৩১ মে পর্যন্ত চলে। দীর্ঘ সাত দিনের অবকাশ শেষে গত ১ জুন সচিবালয় পুনরায় সচল হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লক্ষ্য করেন যে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই বিশেষ টেলিফোনটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কারিগরি দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পুনরায় সংযোগ সচল করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য, এই বিশেষ লাল টেলিফোনের মাধ্যমে সরকারপ্রধান বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মুহূর্তে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাটের প্রেক্ষিতে বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে গত ১ জুনই শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি নথিবদ্ধ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সচিবালয়ের পুরাতন এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত টেলিযোগাযোগের কপার কেবল বা তামার তারের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর লাল টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হতো। তবে ছুটির সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ভবনের ছাদে থাকা সেই কেবলটি কেটে চুরি করে নিয়ে যায়। যার ফলে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ মাধ্যমটি সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়েছিল। এই চুরির নেপথ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।