প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের সাবেক এক অতিরিক্ত সচিবের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার রাজধানীর দিয়াবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হয়। সোমবার বিকেলে সিআইডির মিডিয়া উইংয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন তোফায়েল হোসেন ওরফে রতন, লিটন মুন্সী, বাবুল হোসেন ও নুরুল ইসলাম। আটকের সময় তাদের হেফাজত থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ৯টি মোবাইল ফোন, ১২টি সিম কার্ড, ৫টি মানি রিসিট এবং বিভিন্ন ধরনের বিলের কাগজ ও বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে সাবেক ওই সরকারি কর্মকর্তাকে প্রথমে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির টোপ দেয়। পরবর্তীতে তাকে একটি ভুয়া অফিসে নিয়ে গিয়ে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রলোভন দেখানো হয়। বিনিয়োগ করলে এক সপ্তাহের মধ্যে মূলধনের সাথে ২০ শতাংশ মুনাফা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয় তারা। তাদের প্রলোভনে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী ধাপে ধাপে ৫৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা ওই চক্রের হাতে তুলে দেন।
টাকা আত্মসাৎ করার পর প্রতারকরা কোনো লাভ তো দেয়নি, উল্টো আরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের জন্য তাকে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও লভ্যাংশ বা মূল টাকা ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগীর মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কবলে আবিষ্কার করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সেই মামলার সূত্র ধরেই সিআইডি অভিযান চালিয়ে চক্রের এই চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।