প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট মাকালুর চূড়ায় আরোহণ করে এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছেন পর্বতারোহী বাবর আলী। আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে তিনি ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার উচ্চতার এই অত্যন্ত দুর্গম শিখরটি জয় করেন। নেপালের মহালাঙ্গুর হিমালে অবস্থিত এই পর্বতশৃঙ্গে এটিই কোনো বাংলাদেশির প্রথম সফল পদার্পণ।
বাবর আলীর এই ঐতিহাসিক অভিযানের আয়োজক সংস্থা ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’ এই সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন আরোহণ শেষে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে বাবর পৃথিবীর পঞ্চম সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছান। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে মাউন্ট মাকালুর চূড়ায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর গৌরব অর্জন করলেন তিনি। একই সাথে বিশ্বের আট হাজার মিটারের অধিক উচ্চতার ১৪টি শৃঙ্গের মধ্যে পাঁচটি জয় করা একমাত্র বাংলাদেশি হওয়ার অনন্য রেকর্ডও এখন তার দখলে।
তবে চূড়া জয়ই শেষ কথা নয় বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স। তারা জানায়, অভিযানের অর্ধেক কাজ মাত্র শেষ হয়েছে। বাবর আলী নিরাপদে বেসক্যাম্পে ফিরে না আসা পর্যন্ত তাকে চূড়ান্ত বিপদমুক্ত বলা যাচ্ছে না। নেপালের এই অঞ্চলে অবস্থিত মাউন্ট মাকালু পর্বতারোহীদের কাছে ‘গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান’ হিসেবে পরিচিত। এর পিরামিড আকৃতির তীক্ষ্ণ গড়ন এবং প্রবল বাতাসের কারণে চূড়ার বরফ সরে গিয়ে কালো পাথর দৃশ্যমান হয় বলে একে এমন নামে ডাকা হয়। বাবরের এই বিশেষ অভিযানের শিরোনাম ছিল ‘এক্সপেডিশন মাকালু: দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’।
দীর্ঘ এক দশক ধরে পর্বতারোহণের সাথে যুক্ত বাবর আলী এর আগেও বেশ কিছু কঠিন লক্ষ্য পূরণ করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে হিমালয়ের বিভিন্ন শৃঙ্গে অভিযান চালানো এই আরোহী এর আগে মাউন্ট এভারেস্ট, লোৎসে, অন্নপূর্ণা-১ ও মানাসলু জয় করেছেন। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কৃত্রিম অক্সিজেন ব্যবহার না করেই মানাসলুর চূড়ায় উঠে বিরল কৃতিত্ব দেখান। এছাড়া ২০২২ সালে তিনি জয় করেছিলেন আমা দাবলাম শৃঙ্গ।
মাকালু অভিযানে বাবরের সহযাত্রী হিসেবে ছিলেন অভিজ্ঞ আং কামি শেরপা। এই দুঃসাহসী অভিযানে তাকে সার্বিক সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে ভিজুয়াল নিটওয়ারস লিমিটেড, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন এবং রহমান্স গ্রোসারিজ। বর্তমানে দেশবাসী তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে।