রাফসান সাবাব ও গায়িকা জেফার রহমানের বিয়ের এক সপ্তাহ না যেতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা। বিয়ের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর যেমন শুভেচ্ছা এসেছে, তেমনি দেখা গেছে কটাক্ষ আর নেতিবাচক মন্তব্যের ঢলও।
এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অনিচ্ছায় চলে আসেন রাফসানের সাবেক স্ত্রী, চিকিৎসক সানিয়া শামসুন এশা। নেটিজেনদের একটি বড় অংশ তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে শুরু করে। বিশেষ করে যেদিন রাফসান ও জেফার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন, সেদিনই এশার জন্মদিন হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় আসে।
সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দাবি করেন, এশার সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালীনই রাফসান ও জেফারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যদিও এসব বিষয়ে এতদিন প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি এশা।
তবে বিয়ের পর তিনি একটি স্ট্যাটাস দেন, এরপর সম্প্রতি গণমাধ্যমেও প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন। দেশ টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এশা বলেন, তার জীবনের একটি পুরোনো অধ্যায় নিয়ে আবার কথা শুরু হয়েছে, কিন্তু তিনি আর অপ্রয়োজনীয় জটিলতা নিজের জীবনে টানতে চান না।
এশার ভাষায়,
‘আমি আমার জীবন নিজের মতো গড়ে তুলছি, আমি একটি ইতিবাচক দিক মানুষকে দেখানোর চেষ্টা করছি। মানুষকে অনুপ্রাণিত করছি। কিন্তু অপ্রয়োজনীয়ভাবে যখন বিষয়টা চলে আসে, তখন বিরক্তি তৈরি করে। আমার দিক থেকেও মানুষ একটা স্টেটমেন্ট আশা করে। কিন্তু এই ব্যাপারে আমি কোনো নেতিবাচকতা ছড়াতে চাই না।’
তিনি জানান, যেহেতু আগে এসব বিষয়ে কথা বলেননি, তাই এখনো এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত বলতে প্রস্তুত নন। দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন।
এশা আরও বলেন,
‘যেটা সত্যি সেটা সবাই জানে, আমি খুবই কৃতজ্ঞ যে মানুষ হয়তো আমাকে কাছ থেকে চেনে না; কিন্তু তারা ঠিক জিনিসটা ঠিকই বুঝতে পেরেছে এবং আমার হয়ে অনেকে কথা বলেছে।’
উল্লেখ্য, রাফসান ও জেফারের বিয়ের দুই দিন পর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন এশা। সেখানে তিনি লিখেছিলেন,
‘বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই জানে, বর্তমানে কী ঘটছে এবং সত্যটা কী। এ বিষয়ে আমার আর বেশি কিছু বলার প্রয়োজন মনে করি না।’
সেই স্ট্যাটাসে তিনি স্পষ্ট করেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি আর কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে জড়াতে বা তা নিয়ে ভাবতে চান না।
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে অনুরাগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এশা লেখেন,
‘আমি নিজের জন্য এমন কিছু গড়ে তুলতে চাই, যা কঠিন সময়ে আমাকে ছেড়ে যাবে না কিংবা কোনো বিপর্যয়ে আমাকে অসহায় করে তুলবে না। আমি আর আমার অতীত পরিচয় বহন করতে চাই না। আমি চাই আমার পরিচয় হোক শুধু একটাই—ডা. এশা।’
এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট, অতীতের বিতর্কের বাইরে গিয়ে নিজের পরিচয় ও ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে গড়ে তুলতেই মনোযোগী হতে চান তিনি।