সোমবার দিনগত গভীর রাতে, আনুমানিক পৌনে একটার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার পর্যালোচনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত শিক্ষার্থীর পিতা রফিকুল ইসলাম জানান, রাতে ঘরের জন্য মশার কয়েল কেনাকাটা করতে ছেলেকে কাছের দোকানে পাঠানো হয়। দোকান থেকে সামগ্রী কিনে পরিচিত বন্ধু তুহিনের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথোপকথন শেষে করিম একা হেঁটে নিজ বাসভবনের দিকে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে স্থানীয় ‘৩২ মালিকের ভবন’ সংলগ্ন নির্জন ও অন্ধকার স্থানে পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাঁকে নিশানা করে আচমকা গুলিবর্ষণ করে। এতে তাঁর দুই পায়েই গুলি বিদ্ধ হয়। পরক্ষণেই আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে নিকটস্থ হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।
চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যে রফিকুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, ঢামেক হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে করিমের ডান পায়ে আটকে থাকা একটি বুলেট বের করা সম্ভব হয়েছে। তবে বাম পায়ে লাগা গুলিটি আঘাতের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই শরীর ভেদ করে বের হয়ে যায়। প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের পর রাতেই তাঁকে পরিবারের জিম্মায় বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়, কার স্বার্থে বা কী উদ্দেশ্যে এই অতর্কিত আক্রমণ করা হয়েছে সে বিষয়ে তাঁরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর সন্তানের পূর্ব কোনো শত্রুতাও ছিল না।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক মো. ফারুক মঙ্গলবার জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যান্টনমেন্ট থানাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। হামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়ো হওয়া দুষ্কৃতকারীদের পরিচয় শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।