অকালমৃত্যুর শিকার ১৮ বছর বয়সী আখতারুজ্জামান রাজশাহী মহানগরীর মসজিদ মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার বাবার নাম আসাদুজ্জামান। তাদের স্থায়ী আদি নিবাস রাজশাহীর পবা থানা এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজপাড়া থানা এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি তিনতলা বাড়ির নিচতলায় আখতারুজ্জামানের পরিবার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল। গত কয়েকদিন ধরে বিশেষ প্রয়োজনে তার মা বাসার বাইরে অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, রাতে ওই এলাকায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে তীব্র গরমে ও অন্ধকারের মাঝে আখতারুজ্জামান ফাঁকা ছাদে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছাদের একদম শেষ সীমানায় বা কার্নিশে বসে তিনি মোবাইল ফোনে কারও সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় অসতর্কতাবশত তিনি ওই ভবন এবং পাশের ভবনের মধ্যবর্তী সরু ফাঁকা জায়গায় ছিটকে নিচে পড়ে যান। ওপর থেকে পড়ে গিয়ে তিনি শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত পান। উপস্থিত প্রতিবেশীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রাজপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলাসহ সংশ্লিষ্ট আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহটি স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।