বিরোধী দলের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবির বিষয়টি বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। বৃহস্পতিবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির সাথে সরকারের কোনো নীতিগত বা মৌলিক বিরোধ নেই। বরং কিছু জ্যেষ্ঠ ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি হওয়ার অভ্যন্তরীণ আকাঙ্ক্ষাই বর্তমানে এই আলোচনার মূল কারণ বলে তিনি মনে করেন।
আনিস আলমগীর তার লেখায় জানান, জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি যুক্তি দেন যে, সংসদে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তোলা ঢালাও অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য তিনি সেখানে সশরীরে উপস্থিত থাকেন না। রাষ্ট্রপতি কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন, বরং তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ফলে এই প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ বা দুর্বল করার অর্থ হলো রাষ্ট্রকেই দুর্বল করা।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিক আলমগীর বলেন, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে সেই পদে বসাতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি বর্তমান সরকারের প্রধানসহ অন্যদেরও শেষ পর্যন্ত এই রাষ্ট্রপতির অধীনেই শপথ নিতে হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বঙ্গভবন ঘেরাও করে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর চেষ্টার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া এবং নির্দিষ্ট ভাবাদর্শের রাষ্ট্র গঠন করা। তবে সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। আইনগত ভিত্তি না থাকায় ‘জুলাই সনদ’ জারির পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
পরিশেষে আনিস আলমগীর জানান, বর্তমান রাষ্ট্রপতি গত তিন বছর ধরে তার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার মেয়াদ পূর্ণ করবেন কি না, সেটি একান্তই রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান সরকারের মধ্যকার সিদ্ধান্তের বিষয়। মাঠপর্যায়ের বা বিরোধী দলের দাবিতে রাষ্ট্রপতির অপসারণ রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিপন্থী বলেই তিনি মনে করেন।