রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রেকর্ডভাঙা গরমের বছর হতে পারে ২০২৬

রেকর্ডভাঙা গরমের বছর হতে পারে ২০২৬

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা মাপার সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালটি সম্ভবত বিশ্ব ইতিহাসের চারটি সবচেয়ে উষ্ণ বছরের মধ্যে একটি হবে — এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা-র গবেষকরা।

পরিবেশ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ক্লাইমেটডাটা.সিএ-তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এই পূর্বাভাস জানানো হয়েছে। 

 

বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব (১৮৫০-১৯০০) সময়ের তুলনায় ১.৩৫ থেকে ১.৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, আর প্রায় ১২ % সম্ভাবনা আছে যে গড়ে তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকতে পারে না — যা দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উদ্বেগজনক। 

 

গবেষকরা বলছেন, কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়ানোর ফলে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং এই বায়ু-জ্বালানি কার্যক্রমই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল চালিকা শক্তি। গত কয়েক বছর ধরেই এল নিনো-এর মত তাপ প্রবাহের ঘটনা উষ্ণতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। 

 

বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গড় তাপমাত্রা রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও, বিজ্ঞানীরা ২০২৬-এর এই সম্ভাব্য তাপমাত্রার বৃদ্ধিকে জলবায়ু ব্যবস্থায় বিরূপ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। 

 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, যদি তাপমাত্রা আরো বাড়ে, তবে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও বন্যা-র ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও মানবজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

 

এ ধরনের বৈশ্বিক উষ্ণতার ধারা রোধে জ্বালানি-দক্ষ প্রযুক্তি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন — এসবেই বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি এখন বেশি রাখা হচ্ছে।