বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রংপুরে তিস্তার ভাঙনে নদীপাড়ে বাড়ছে আতঙ্ক

রংপুরে তিস্তার ভাঙনে নদীপাড়ে বাড়ছে আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় তিস্তা নদীর সংরক্ষিত ডানতীর বাঁধ ভাঙনের মুখে পড়েছে। প্রবল স্রোতে বাঁধের প্রায় বিশ মিটার এলাকার ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ধর্মীয় উপাসনালয়, চলাচলের পথ ও একাধিক বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে নদীর পাড়ে জিওব্যাগ ফেলা হলেও স্থানীয় অধিবাসীদের শঙ্কা কাটেনি। নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এর পূর্বে গত সপ্তাহে পার্শ্ববর্তী নোহালী ইউনিয়নে ভাঙনের কারণে বাইশটি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে তলিয়ে যায়। এখনো শতাধিক পরিবার একই ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। শনিবার সকালে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উজানের পাহাড়ি ঢল কমে আসায় নদীতে পানির পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে। তবে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত কোলকোন্দ অংশের ব্লক ধসে নদীগর্ভে চলে যায়। এতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়সহ পার্শ্ববর্তী মসজিদ, পাকা সড়ক, বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগ্রাসের আশঙ্কায় রয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম এবং রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী অকুস্থল পরিদর্শন করেন। শনিবার সকাল থেকে ভাঙনগ্রস্ত পয়েন্টে জিওব্যাগ ডাম্পিং শুরু করায় বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে তিস্তার ভাঙনে গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের কাচারীপাড়া ও চর বাগডোহরা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইতিমধ্যে ওই এলাকার ২২টি পরিবারের বসতভিটা, কৃষিজমি ও রাস্তাঘাট নদীপ্রবাহে হারিয়ে গেছে এবং চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

কোলকোন্দ এলাকার বাসিন্দা শামীম মিয়া জানান, নাব্য হারিয়ে নদীর তলদেশ পলিমাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় তিস্তার দুপারেই তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষাকালে নদী অতিরিক্ত পানি ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় স্রোতের চাপ দুই তীরে গিয়ে পড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত ড্রেজিং ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

কোলকোন্দ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, ডানতীরের বাঁধটি সুরক্ষিত হলেও শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে ভবন সংলগ্ন অংশে ধস নামে। তিস্তায় পলি জমে বড় বড় চর জেগে ওঠায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তীরে আঘাত হানছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হয়েছে।

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, তাঁর ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডের বাইশটি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে চলে গেছে।

রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর স্থানীয়দের এমন সহায়-সম্পদ হারানোর হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তিনি নিশ্চিত করেন যে, পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।