শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

রৌমারী সীমান্ত থেকে উধাও পুশইনের শিকার ৩ যুবক

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তে দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমানার শূন্যরেখায় আটকে থাকা সেই তিন যুবক রহস্যজনকভাবে সেখান থেকে চলে গেছেন।

রৌমারী সীমান্ত থেকে উধাও পুশইনের শিকার ৩ যুবক
ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তে দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমানার শূন্যরেখায় আটকে থাকা সেই তিন যুবক রহস্যজনকভাবে সেখান থেকে চলে গেছেন।

মঙ্গলবার রাতের কোনো এক প্রহরে তারা ওই নির্দিষ্ট স্থানটি ত্যাগ করেন। বুধবার ভোরের দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে সেখানে কাউকে না পেয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন।

প্রশাসন ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ছয়জন এবং ভুন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও তিনজনকে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বাংলাদেশে পুশইন বা জোরপূর্বক পাঠানোর চেষ্টা চালায়। তবে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা এ দেশে ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এর আগে গয়টাপাড়া সীমান্তের ছয়জনও একই কায়দায় রাতের অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন। সর্বশেষ ভুন্দুরচর সীমান্তের বাকি তিনজনও দীর্ঘ আড়াই সপ্তাহ পর গত রাতে নজরদারি এড়িয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করলেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুহুল আমিন জানান, বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক সীমানার ওই নির্দিষ্ট পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায় সেখানে কেউ নেই। ওই এলাকাটি এখন পুরোপুরি জনশূন্য এবং ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদেরও সেখানে আর অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে না।

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, আজ ভোরের আলো ফোটার পর থেকে শূন্যরেখায় ওই যুবকদের আর কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের আঁধারে তারা সীমান্ত এলাকা থেকে অন্যত্র সরে পড়েছেন।

এদিকে সীমান্তবাসীর অনুমান, দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা হয়তো কোনো এক সুযোগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন অথবা পুনরায় ভারতের দিকেই ফিরে গেছেন।