শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সাবেক মার্কিন সেনারা কেন নির্বাসনের ভয়ে থাকেন?

যাদের ঘাম ও রক্তে সুরক্ষিত হয়েছে আমেরিকার সীমানা, আজ তারাই নিজ দেশে পরবাসী হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সেবা দেওয়া শত শত অভিবাসী যোদ্ধার (Veteran) ওপর ঝুলছে নির্বাসনের খড়গ। কেন দেশের জন্য জীবন বাজি রাখা এই বীরদের বিতাড়িত করা হচ্ছে এবং এই আইনি জটিলতার পেছনে লুকিয়ে থাকা প্রকৃত কারণগুলো কী, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট।

সাবেক মার্কিন সেনারা কেন নির্বাসনের ভয়ে থাকেন?
ছবি: সংগৃহীত

যাদের ঘাম ও রক্তে সুরক্ষিত হয়েছে আমেরিকার সীমানা, আজ তারাই নিজ দেশে পরবাসী হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সেবা দেওয়া শত শত অভিবাসী যোদ্ধার (Veteran) ওপর ঝুলছে নির্বাসনের খড়গ। কেন দেশের জন্য জীবন বাজি রাখা এই বীরদের বিতাড়িত করা হচ্ছে এবং এই আইনি জটিলতার পেছনে লুকিয়ে থাকা প্রকৃত কারণগুলো কী, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট।

সেবার বিনিময়ে নাগরিকত্ব: এক অধরা প্রতিশ্রুতি

ঐতিহাসিকভাবেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া অভিবাসীদের দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি অত্যন্ত জটিল। অনেক সেনা সদস্য মনে করেন, সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেই বুঝি তারা স্বয়ংক্রিয়াভাবে নাগরিক হয়ে গেছেন। কিন্তু যান্ত্রিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সঠিক নির্দেশনার অভাবে অনেকেরই নাগরিকত্বের আবেদন পূর্ণ হয় না। ফলে সামরিক জীবন শেষে তারা যখন সাধারণ জীবনে ফিরে আসেন, তখন ছোটখাটো আইনি জটিলতা বা অপরাধের কারণেও তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

অপরাধ ও কঠোর অভিবাসন আইন

১৯৯৬ সালের একটি কঠোর অভিবাসন আইন অনুযায়ী, কোনো অ-নাগরিক (ভ্যাটেরানসহ) যদি ‘অ্যাগ্রাভেটেড ফেলোনি’ বা গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার বিধান রয়েছে। অনেক যোদ্ধা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) বা মাদকাসক্তিতে ভোগেন, যা তাদের অজান্তেই অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। আমেরিকার জন্য লড়াই করা সত্ত্বেও আইন তাদের কোনো বিশেষ ছাড় দিচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল আইনি বিষয় নয়, বরং চরম নৈতিক অবক্ষয়। এ প্রসঙ্গে নির্বাসিত এক যোদ্ধার আকুতি, "আমি এই দেশের পতাকার জন্য লড়েছি, নিজের জীবন দিতে চেয়েছি। কিন্তু আজ যখন আমার সাহায্যের প্রয়োজন, তখন তারা আমাকে এমন এক দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে যেখানে আমার চেনার কেউ নেই।"

মেক্সিকো সীমান্তে ‘নির্বাসিত যোদ্ধাদের’ বসতি

নির্বাসনের শিকার হওয়া অনেক প্রাক্তন মার্কিন সেনাকে এখন মেক্সিকোর টিজুয়ানার মতো সীমান্ত শহরগুলোতে মানবেতর জীবন যাপন করতে দেখা যায়। তারা সেখানে নিজেদের অধিকার আদায়ে ছোট ছোট সংগঠন গড়ে তুলেছেন। তাদের দাবি একটাই—যে দেশের জন্য তারা লড়াই করেছেন, সেই দেশেই তাদের শেষ নিশ্বাস ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হোক।

সংশ্লিষ্ট প্রচারণাকারীরা বলছেন, "আমাদের যোদ্ধাদের রক্ষা করা কেবল আমাদের দায়িত্বই নয়, এটি একটি নৈতিক ঋণ যা আমাদের অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। সামরিক পোশাক পরা মানেই তারা আমেরিকান হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।"

বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ

জো বাইডেন প্রশাসন কিছু নির্বাসিত যোদ্ধাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিলেও বিশাল সংখ্যক ভ্যাটেরান এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং অন্যদিকে মানবিকতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে পিষ্ট হচ্ছেন সেই যোদ্ধারা, যারা একসময় গর্বের সঙ্গে মার্কিন ইউনিফর্ম গায়ে জড়িয়েছিলেন।

আমেরিকার ‘থ্যাঙ্ক ইউ ফর ইয়োর সার্ভিস’ স্লোগানটি যেন এই অভিবাসী যোদ্ধাদের ক্ষেত্রে এক নিষ্ঠুর পরিহাসে পরিণত হয়েছে। আইনি সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত এই ‘দেশপ্রেমিকদের’ বিতাড়নের মিছিল থামার কোনো লক্ষণ নেই।