রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে ২৯ জন নিহত

আফগানিস্তান সংলগ্ন সীমান্তবর্তী ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী একটি বড় ধরনের স্থল অভিযান পরিচালনা করেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানা লক্ষ্য করে চালানো এই সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত সামরিক তৎপরতায় অন্তত ২৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে ২৯ জন নিহত
ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তান সংলগ্ন সীমান্তবর্তী ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী একটি বড় ধরনের স্থল অভিযান পরিচালনা করেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানা লক্ষ্য করে চালানো এই সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত সামরিক তৎপরতায় অন্তত ২৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার ২৮ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দেশটির তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এপি এই খবর প্রকাশ করেছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি দেশটির অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর উপর্যুপরি সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সীমান্ত এলাকার এই রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা চৌকি লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামাবাদ প্রশাসনের দাবি, এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সিংহভাগের নেপথ্যে রয়েছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি।

এই অভিযানের ঠিক আগের দিনই দেশটির দক্ষিণের অন্যতম প্রধান বন্দরনগরী করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে ভারী অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে চড়াও হয় একদল বন্দুকধারী। সেই আত্মঘাতী হামলায় রেঞ্জার্সের তিন সদস্য প্রাণ হারান। পরে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিরাপত্তা বাহিনী তিন সন্ত্রাসীকে নিষ্ক্রিয় করে এবং একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করতে সক্ষম হয়।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, করাচির ওই হামলায় জড়িত ধৃত ব্যক্তি মূলত একজন আফগান নাগরিক। শনিবার ২৭ জুন রাতের দিকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে পাকিস্তানি তালেবানের বিচ্ছিন্ন উপদল জামাত-উল-আহরার করাচির ওই হামলার দায় স্বীকার করে নেয়।

এই ঘটনার পর তথ্যমন্ত্রী তারার স্পষ্ট করে বলেন, সীমান্ত অঞ্চলের এই সর্বশেষ অভিযানে মূলত পাকিস্তানি তালেবানের ঘাঁটিগুলোকেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের বর্তমান শাসক দল আফগান তালেবানের সাথে পাকিস্তানি তালেবানের কাঠামোগত ভিন্নতা থাকলেও কৌশলগত দিক থেকে উভয় পক্ষ একে অপরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।