শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শেখ হাসিনার বাসার আড়াই কোটি টাকার খাবারের বিল বাকি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও গণভবনে দীর্ঘ সময় খাবার সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকার বকেয়ার মুখে পড়েছে।

শেখ হাসিনার বাসার আড়াই কোটি টাকার খাবারের বিল বাকি!
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও গণভবনে দীর্ঘ সময় খাবার সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকার বকেয়ার মুখে পড়েছে।

পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে একটি চুক্তির আওতায় গণভবনে নিয়মিত খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করত হোটেল অবকাশ। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সময় এই বকেয়া প্রায় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ওই সময়ে নিয়মিত রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ এবং গণভবনে মানুষের যাতায়াতের কারণে খাদ্য ব্যয়ের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি।

বিগত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একাধিকবার চিঠি দিলেও এখন পর্যন্ত হোটেল অবকাশ এই বকেয়া আদায়ে ইতিবাচক সাড়া পাননি।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবনে খাবার সরবরাহের জন্য হোটেল অবকাশের উপর নির্ভর করছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, যার ফলে সরকারের কাছে হোটেল অবকাশের মোট পাওনা এখন প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগ এই বিলকে চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলেও পর্যটন করপোরেশনের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বকেয়া অর্থের কারণে হোটেল অবকাশ তাদের কর্মচারী বেতন-ভাতা পরিশোধে সমস্যার মুখে পড়েছে। এছাড়া কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা না দেওয়ার কারণে নতুন মালামাল সরবরাহ করতে পারছে না। এর ফলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নিয়মিত খাবার সরবরাহও কঠিন হয়ে পড়েছে। পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা জানিয়েছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাকি থাকলেও সেবা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা পুনরায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠাবেন।

চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ৪৬০টি আইটেম সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ। এর মধ্যে রয়েছে দেশি-বিদেশি ফল, বেকারি সামগ্রী, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা ও ঘি। এই খাদ্য সরবরাহের প্রথা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমল থেকে চলতে আসছে। তবে বর্তমান বকেয়া সমস্যা সমাধান না হলে, দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যবাহী সরবরাহ ব্যবস্থা হোটেল অবকাশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।