চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গুনাগারি এলাকার এক যুবকের বিরুদ্ধে তার সহকর্মী ও অংশীদারদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত যুবক ৭৩ জন শেয়ারহোল্ডারের লভ্যাংশসহ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম ওয়াহিদুল ইসলাম, যিনি পশ্চিম গুনাগরি গ্রামের আজিজ আহমদের ছেলে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে এবং পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে ভুক্তভোগীরা রোববার সন্ধ্যায় বাঁশখালীর পুকুরিয়া চাঁনপুর এলাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
ভুক্তভোগী অংশীদাররা সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিগত এক দশক ধরে তারা অত্যন্ত বিশ্বাস ও সুনামের সঙ্গে ওয়াহিদুল ইসলামের সাথে যৌথভাবে ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার আচরণে প্রতারণামূলক মনোভাব প্রকাশ পেতে শুরু করে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে এর আগে কয়েক দফায় আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকগুলোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি জুন মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সব অংশীদারের বকেয়া বুঝিয়ে দেওয়ার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ওয়াহিদুল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও তিনি পাওনা পরিশোধ না করে নানামুখী তালবাহানা শুরু করেন।
পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৪ জুন বকেয়া অর্থ পরিশোধ এবং মালামাল রাখার গুদাম সরজমিনে দেখানোর কথা বলে তিনি পাওনাদারদের ঢাকায় ডেকে নেন। তবে পাওনাদাররা রাজধানী ঢাকায় পৌঁছালেও ওয়াহিদুল ইসলাম তাদের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা দেখা করেননি। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের প্রবল আশঙ্কা, তাদের রক্তঘামে উপার্জিত অর্থ পরিকল্পিতভাবে আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই ওয়াহিদুল ইসলাম নিজ থেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেকোনো সময় অবৈধ উপায়ে দেশত্যাগ করতে পারেন। তাই তিনি যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে পাওনা টাকা উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পুকুরিয়া চাঁনপুর অঞ্চলের বাসিন্দা মোহাম্মদ এহসানুল হক ও শাফায়াত উল্লাহ এবং বৈলছড়ি চেচুরিয়া এলাকার আবু ছালেহ ও মুহাম্মদ ইশতিয়াক।