আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ এলাকা ইরানশাহরে তাদের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের পূর্ণ আধিপত্য রয়েছে। মার্কিন পক্ষ থেকে যদি এই ধরনের সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত রাখা হয়, তবে এই আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে কোনো ধরনের জ্বালানি তেল কিংবা গ্যাস রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও ইরানের ওপর তাদের চাপ বজায় রেখেছে। এর ধারাবাহিকতায় টানা ষষ্ঠ রাতের মতো বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং পাঁচটি সংযোগ সেতু লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির, কেশম দ্বীপ, সিরিক এবং ইরানশহরসহ বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় চালানো এই হামলায় অন্তত আটজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন বিমান হামলায় একজন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। সম্প্রচারমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর খামিরের কাছে দুটি পৃথক সেতুতে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং নয়জন গুরুতর আহত হন। এছাড়া কেশম দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে অন্তত চারটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করার পাশাপাশি হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা তাসনিম।