রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুল এলাকায় সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের নিবন্ধন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)।
বুধবার (৪ মার্চ) বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি নোটিশের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়।
নিবন্ধন স্থগিত হওয়া চিকিৎসকেরা হলেন— সাতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. তাসনুভা মাহজাবিন ও ডা. সৈয়দ সাব্বির আহমেদ। বিএমডিসির ৫৪তম কাউন্সিল সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানানো হয়েছে যে, শিশু আয়ানের খৎনা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসায় সরাসরি অবহেলার প্রমাণ না মিললেও ওই চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণে গুরুতর ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এবং প্রবিধানমালা, ২০২২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী তাদের নিবন্ধন সাময়িকভাবে বাতিল ও ছয় মাসের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিএমডিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ গত ৩ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়কালে তারা দেশের কোথাও কোনো প্রকার অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারবেন না এবং নিজেদের চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেও আইনত বাধা থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরুতে শিশু আয়ানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সাতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়ানকে খৎনা করানোর জন্য নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের পর দীর্ঘ সময় জ্ঞান না ফেরায় তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা আট দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ৯ জানুয়ারি আয়ানের বাবা শামীম আহমেদ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে বাড্ডা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।