শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সনদনির্ভর নয় কর্মমুখী শিক্ষাই সরকারের অগ্রাধিকার : ববি হাজ্জাজ

সনদসর্বস্ব পড়ালেখা নয়, কর্মমুখী শিক্ষাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সনদনির্ভর নয় কর্মমুখী শিক্ষাই সরকারের অগ্রাধিকার : ববি হাজ্জাজ
ছবি : সংগৃহীত

সনদসর্বস্ব পড়ালেখা নয়, কর্মমুখী শিক্ষাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন একটি কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল পুঁথিগত সনদের অধিকারী হবে না, বরং দক্ষ, নৈতিক ও আধুনিক কর্মক্ষেত্রের উপযোগী যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত হবে। চিরাচরিত শুধু ডিগ্রি অর্জনের ধারার বাইরে গিয়ে প্রকৃত মেধা, নৈতিক মূল্যবোধ ও বাস্তবমুখী জ্ঞানার্জনই বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

আজ রবিবার রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে অনুষ্ঠিত স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন বা নবীনবরণ উৎসব-২০২৬ এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের একটি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশের একজন গড় উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতা আন্তর্জাতিক পরিমাপে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর সমমানের কাছাকাছি। এই দৃশ্যপট দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তাই কেবল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বা জিপিএ অর্জনের পেছনে না ছুটে, শিক্ষার্থীদের গুণগত পাঠদান, প্রায়োগিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সমান উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য। তিনি আরও যোগ করেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অপশাসন ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাবে আমাদের শিক্ষার গুণগত মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর ফলে প্রতিবছর হাজার হাজার তরুণ উচ্চশিক্ষার সনদ নিয়েও যোগ্য কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। বর্তমান সরকার এই অচলাবস্থা দূর করতে শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক ও আমূল সংস্কার আনার কাজ হাতে নিয়েছে।

ববি হাজ্জাজ তরুণদের পাঠ্যক্রমের বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী এমন কিছু বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করছে, যেগুলোর বাজার চাহিদা বা কর্মসংস্থানের পরিধি অত্যন্ত সীমিত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে যুগোপযোগী, পেশাকেন্দ্রিক ও প্রায়োগিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণে নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, সততা, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করতে না পারলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আগামী দিনের শিক্ষাক্রমে মানবিক গুণাবলীর বিকাশে বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামীমা ইয়াসমিনের সার্বিক সভাপতিত্বে আয়োজিত এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানল্লাহ এবং কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ড. মো. মোখলেস উর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক মণ্ডলী এবং নবাগত শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।