শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সঙ্গীত শিক্ষা চালু নিয়ে হেফাজতের ‘আপত্তি’

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত শিক্ষা চালুর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা ও আপত্তি জানিয়েছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

সঙ্গীত শিক্ষা চালু নিয়ে হেফাজতের ‘আপত্তি’
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত শিক্ষা চালুর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা ও আপত্তি জানিয়েছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা দাবি করেন, ধর্মপ্রাণ মুসলিম অভিভাবকদের সেন্টিমেন্ট উপেক্ষা করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী হবে।

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ইসলামি শরিয়তে বাদ্যযন্ত্র অনুমোদিত নয়—এমন বিশ্বাস কোটি কোটি মুসলিমের। ফলে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সংগীত শিক্ষা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাদের মতে, মুসলিম শিশু-কিশোরদের ওপর বাধ্যতামূলকভাবে সংগীত শিক্ষা আরোপ করা হলে তা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। এটি যেমন অযৌক্তিক, তেমনি সব শিক্ষার্থীর জন্য এই পাঠ্যক্রম বাধ্যতামূলক করাও সংগতিপূর্ণ নয়।

বিবৃতিতে নেতারা আরও বলেন, দেশে সংগীত ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য ইতোমধ্যে বিশেষায়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেসব অভিভাবক তাদের সন্তানদের এই বিষয়ে শিক্ষিত করতে চান, তারা ওইসব প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে পারেন। সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় সবার জন্য এটি আবশ্যক করার কোনো প্রয়োজন নেই। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা প্রশ্নফাঁস ও পাঠ্যবই বিতর্কের কারণে অভিভাবকদের আস্থা হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা দ্বীনি শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়ে একটি বিকল্প শিক্ষাপদ্ধতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

হেফাজত নেতারা মনে করেন, শিশুদের জন্য সংগীত শিক্ষার চেয়ে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যেই ওলামায়ে কেরাম দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক স্তরে যোগ্য ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন। মুসলিমসহ অন্যান্য সকল ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে বলে বিবৃতিতে মত দেওয়া হয়। সরকারি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে সাধারণ তৌহিদী জনতা তা মেনে নেবে না বলেও তারা হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।