ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী কার্যদিবসেই রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বক্তব্য শুরু করতে গেলে দলটির সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেন। তবে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলেও জামায়াতের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজ থেকে রাষ্ট্রপতির এই ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ যখন কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান, ঠিক তখনই জামায়াতের সংসদ সদস্যরা নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করার স্লোগান লেখা ছিল। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রাষ্ট্রপতি স্পিকারের আসনে উপবিষ্ট হলেও বিরোধী দলের হইচই ও স্লোগান অব্যাহত থাকে। কেবল জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় সংসদ সদস্যরা সাময়িকভাবে শান্ত হয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার ভাষণের শুরুতেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের বিবরণ পেশ করেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। কিন্তু স্পিকারের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও হট্টগোল থামিয়ে জামায়াতের সদস্যরা অধিবেশনে অবস্থান না করে বেরিয়ে যান। এই পুরো ঘটনাটি জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে দেখানো হয়।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন। এছাড়া বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দেশের কৃষি ও শিল্প খাতের উন্নয়নে বর্তমান প্রশাসন জনবান্ধব ও উন্নয়নমূলক নীতি গ্রহণ করবে বলে রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।