বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সৈন্যসংকটে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী: আইডিএফ প্রধান

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির দেশটিতে চলমান সৈন্যসংকট নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, সেনাবাহিনীতে বিদ্যমান জনবল ঘাটতি দ্রুত মেটানো সম্ভব না হলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে ইসরায়েল।

সৈন্যসংকটে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী: আইডিএফ প্রধান
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির দেশটিতে চলমান সৈন্যসংকট নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, সেনাবাহিনীতে বিদ্যমান জনবল ঘাটতি দ্রুত মেটানো সম্ভব না হলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে ইসরায়েল।

বুধবার আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বছরের শুরুতেই দেশটির সামরিক বাহিনী কয়েক হাজার সেনাসদস্য হারাতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জামির পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার সময়সীমা বৃদ্ধি, সংরক্ষিত বাহিনীর কাঠামো সংস্কার এবং একটি আধুনিক নিয়োগ আইন পাসের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। বর্তমান আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী বাহিনী গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। ইসরায়েল সরকার যখন কট্টর অর্থোডক্স ইহুদি বা হারেদিদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই আইডিএফ প্রধানের পক্ষ থেকে এমন কড়া বার্তা এলো।

সেনাবাহিনী প্রধানের মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে সামরিক সেবার মেয়াদ কমিয়ে ৩০ মাস করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা আগামী বছর থেকে কার্যকর হলে সৈন্য সংখ্যায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে। তিনি এই মেয়াদ পুনরায় ৩৬ মাস করার দাবি জানালেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো জোরালো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। জামির সতর্ক করে বলেন, এই ঘাটতির ফলে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের অভাব দেখা দেবে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে সংরক্ষিত বাহিনীর ওপর। বারবার তাঁদের তলব করার ফলে দীর্ঘমেয়াদে বাহিনীর কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।

বর্তমানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে প্রায় ১২ হাজার নতুন যোদ্ধার জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। গত দুই বছরের টানা যুদ্ধের ফলে নিয়মিত ও সংরক্ষিত উভয় বাহিনীর ওপরই ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ সরকারি একটি প্রস্তাবিত বিলের মাধ্যমে কট্টর অর্থোডক্স শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা নিয়ে সামরিক অঙ্গন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৮০ হাজার সামরিক সেবার যোগ্য কট্টর অর্থোডক্স যুবক থাকলেও তাঁরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন না, যা নিয়োগ ব্যবস্থায় চরম বৈষম্য তৈরি করেছে।

এর আগেও বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইয়াল জামির এই সংকট নিয়ে ‘লাল সংকেত’ জারি করেছিলেন। তিনি পুনরায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ বাড়ানো এবং সংরক্ষিত সেনাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। চিঠির শেষে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ আরও বৃদ্ধি পাবে। এমন অবস্থায় সরকার যদি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ছাড় দেওয়ার নীতিতে অনড় থাকে, তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক গভীর জনবল সংকটের মুখে ধাবিত হবে।