বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

‎সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ় বিশ্বাসী : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

‎সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ় বিশ্বাসী : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো মূল্যে সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে রাষ্ট্র বদ্ধপরিকর।

অতীতের বিভিন্ন সময়ে দেশের নানা প্রান্তে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে এ ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আজ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এবং সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের এই দলটির সাথে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরকারের বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দেশের সার্বিক সম্প্রীতি রক্ষা, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সামাজিক ও আইনি দাবি-দাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্থান পায়।

সাক্ষাৎকার চলাকালীন পরিষদের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অনুরোধ উত্থাপন করা হয়, যেন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য একজন সুনির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা 'ফোকাল পয়েন্ট' নিয়োগ করা হয়। উপদেষ্টা এই প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং দ্রুত তা বাস্তবায়নের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

বৈঠকে সাম্প্রতিক কিছু স্থানীয় ঘটনা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য নিয়েও আলোচনা হয়। এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক আচরণ বা বক্তব্য থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষাকে সরকার যেমন সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে, ঠিক তেমনি দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য নাগরিকদের পক্ষ থেকেও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি।